আইন-শৃঙ্খলার অবনতির সুযোগে হামলা ও লুটপাটের জন্য জানমালের নিরাপত্তা চেয়েছে হেযবুত তওহীদ। শনিবার (১০ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নোয়াখালীতে অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট এবং গাইবান্ধা, শেরপুর, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়, পাবনা, সুনামগঞ্জসহ ৮টি কার্যালয়ে হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গত ৯ আগস্ট শুক্রবার রাতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার পোরকরা গ্রামে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের ৩০ একর জমি থেকে সংগ্রহ করা আটটি খড়ের গাদা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ৫ আগস্ট আইন-শৃঙ্খলার অবনতির সুযোগে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পদ লুটপাট করেছে। এখন তারা সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের বিভিন্ন প্রকল্পে হামলার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি আরও জানায়, হেযবুত তওহীদ আন্দোলন প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই আমাদের বিরুদ্ধে ধর্মের অপব্যবহারকারী উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো নানা মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। আমাদের কর্মীদেরকে অবর্ণনীয় নির্যাতন নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। উগ্রবাদী গোষ্ঠী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতার পিতৃনিবাস করটিয়া জমিদার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। মাদারীপুর, কুষ্টিয়া, নোয়াখালী, পাবনায় হামলা চালিয়ে নৃশংসভাবে কয়েক সদস্যকে হত্যা করেছে। এখন পর্যন্ত আমাদের উপর সহস্রাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। আইন হাতে তুলে না নিয়ে আমরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু হামলাকারীরা ধর্মের মুখোশ পরে বরাবরই পার পেয়ে গেছে।
হেযবুত তওহীদ জানায়, ২০১৬ সালে হেযবুত তওহীদের বর্তমান এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে অবস্থিত তার নিজ বাড়ির আঙিনায় একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। স্থানীয় উগ্রগোষ্ঠী ‘মসজিদ নয়-গির্জা বানাচ্ছে’ গুজব তুলে দিয়ে তারা ধর্মান্ধ মানুষকে উস্কে দিয়ে সেদিন তার বাড়িঘরসহ আমাদের অন্যান্য সদস্যদের বাড়িঘরও জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। মসজিদটি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। এরপর মসজিদের নির্মাণকাজে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে আগত দুই তরুণ সদস্যকে প্রকাশ্য দিবালোকে জবাই করে হত্যা করে। তাদের হাত পায়ের রগ কাটে, চোখ তুলে ফেলে এবং দেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
হেযবুত তওহীদ আরও জানায়, ২০১৬ সালের হামলার পর হাল ছেড়ে না দিয়ে গ্রামের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য আমরা অন্তত ৫০টির মতো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করি। তার মধ্যে রয়েছে কয়েকটি গরুর খামার, মাছের ঘের, একটি বিদ্যালয়, চার তলা মসজিদ কমপ্লেক্স, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ইত্যাদি। সেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রমিক কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় এক হাজারের মতো সদস্য তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে ওই গ্রামেই বসবাস করছেন। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে আবারো উগ্রবাদীরা ২০১৬ সালের মত একটি তাণ্ডব চালিয়ে গণহত্যার ষড়যন্ত্র করছে। হেযবুত তওহীদের এমামের গ্রাম চাষীরহাট থেকে এক বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে বিশেষ করে লাকসাম উপজেলার অন্তর্গত বিপুলাসার বাজারের কাছে আমাদের গার্মেন্টস কারখানা, খামার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত লোকজন বাসা ভাড়া করে থাকেন। অনেকে সেখানে মুদির দোকান করেন, রিকশা গ্যারেজ ইত্যাদিতে কাজ করেন। ৫ আগস্ট সরকারের পতনের দিন দুর্বৃত্তরা তাদের প্রত্যেকটি বাড়ি ও দোকানপাটে লুটপাট চালিয়েছে, বাড়িতে আগুন দিয়েছে। পঞ্চাশটি পরিবারের প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পদ তারা লুট করে পরিবারগুলোকে সর্বস্বান্ত করেছে। এছাড়াও এদিন হেযবুত তওহীদের শেরপুর, জয়পুরহাট, পাবনা, সুনামগঞ্জসহ মোট ৮টি কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে উগ্রবাদীরা।
সংগঠনটি স্পষ্ট করেন, আমাদের রাজনীতির সাথে কোনো সম্পৃক্ততা অতীতেও ছিল না, এখনও নেই। আমাদের আইন ভঙ্গ করার কোনো রেকর্ডও নেই আমরা উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কাজ করি তাই এই উগ্রবাদী গোষ্ঠীটি এমামের বাড়িসহ হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়িতে হামলা চালাতে ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলো লুটপাট চালাতে উসকানি দিয়ে যাচ্ছে। অনলাইনে তারা শত শত পোস্ট করেছে এ জাতীয় হুমকি দিয়ে। আমরা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছি।
৫ আগস্ট সোনাইমুড়ি থানায় হামলা করা হয়েছে এবং সেখানে চারজন পুলিশসহ সাত জন মানুষ নিহত হয়েছে। সেদিন বাজান বাজারে হামলা ও লুটপাট হয়েছে। পরদিন এই উগ্রবাদী গোষ্ঠীটি বারবার চাষীরহাট বাজারে এসে হেযবুদ তওহীদকে এলাকা থেকে উচ্ছেদ করার হুমকি দিয়ে গেছে। তবে এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি কিন্তু অনলাইনে ও অফলাইনে ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত রয়েছে। সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের এমামের বাসগৃহকে কেন্দ্র করে একটা ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে জানায় হেজবুত তওহীদ।
এমতাবস্থায় অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে ৪টি দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এগুলো হলো-
১. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া।
২. স্থানীয় চাষীরহাট বাজারে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা ।
৩. বিপুলাসারে ৫ আগস্ট সংঘটিত লুটপাটে আমাদের অর্ধশত পরিবারের সদস্যরা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। বিনা কারণে যারা তাদের এই ক্ষতিসাধন করেছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা ।
৪. এখনও প্রতিমুহূর্তে গুজব সৃষ্টি করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির যে ষড়যন্ত্র চলছে সে বিষয়ে সরাসরি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা ।









