বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে দেশের যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছিল, তা ‘ভুয়া’।
বৃহস্পতিবার ২৩ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেছেন ড. ইউনূস।
এসময় তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, তারা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতি নিয়ে যথাযথ প্রশ্ন তোলে না। তিনি বলেছেন, বিশ্বের সবাই এর জন্য দায়ী, এটি একটি ভাল শিক্ষা। হাসিনা বিশ্বের বিভিন্ন মঞ্চে বাংলাদেশকে একটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে তুলে ধরেছেন, কিন্তু এটি ছিল ভুয়া এবং বাস্তবিক প্রবৃদ্ধি নয়।
তিনি আরও বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) দাভোসে গিয়ে সবাইকে বলেছিলেন কীভাবে একটি দেশ চালাতে হয়। কিন্তু কেউই তার কথা নিয়ে প্রশ্ন করেনি, যা একটি খারাপ বিশ্ব ব্যবস্থা নির্দেশ করে।
বিশ্বব্যাংক ২০২৩ সালে বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধিপ্রাপ্ত অর্থনীতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল এবং বলা হয়েছিল যে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ বিশাল অর্থনৈতিক পরিবর্তন সাধন করেছে। হাসিনার নেতৃত্বে, বিশেষত গার্মেন্টস শিল্পে বিপুল পরিমাণ উন্নতি হয়, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
তবে ড. ইউনূস শেখ হাসিনার শাসনকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, হাসিনার শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বাকস্বাধীনতার দমন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রতি নির্যাতন বেড়েছে। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, হত্যা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
বাংলাদেশের অর্থনীতি সাফল্য অর্জন করলেও ড. ইউনূসের মতে, প্রবৃদ্ধি যদি সাধারণ মানুষের কল্যাণে না আসে এবং বৈষম্য বৃদ্ধি পায়, তবে তা বাস্তবিক উন্নয়ন নয়। আন্দোলনকারী ও রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং নিজের মেয়াদকালে হাসিনা যেসব অপরাধ করেছেন সেজন্য শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে চান তিনি।









