মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তিনির্ভর ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপ চালু করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে ছয় জেলার ৬১০টি কার্যালয়ের ৯১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকৃত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং ভূমিসেবা কার্যক্রমে জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জিও ফেন্সিং’ প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত কর্মস্থলের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অবস্থান করলেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা দিতে পারবেন। ইতোমধ্যে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম জেলায় এ ব্যবস্থার পাইলটিং চলছে।
জিও-ফেন্সিং হলো মানচিত্রে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারণের প্রযুক্তি। ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপে প্রতিটি ভূমি অফিসের চারপাশে নির্ধারিত একটি ভার্চুয়াল সীমানা থাকবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর মোবাইলের অবস্থান ওই সীমানার মধ্যে থাকলেই চেক-ইন করার সুযোগ সক্রিয় হবে। ফলে কর্মস্থলের বাইরে থেকে হাজিরা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
অফিসে পৌঁছানোর পর চেক-ইন এবং কর্মদিবস শেষে চেক-আউট করা যাবে। একই অ্যাপের মাধ্যমে ছুটির আবেদনও জমা দেওয়া যাবে। কোনো কর্মকর্তা অফিস চলাকালে কর্মস্থল ত্যাগ করলে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল সংকেত দেখাবে। তবে সভা, তদন্ত বা সরকারি প্রয়োজনে অফিসের বাইরে যেতে হলে ‘সাইট ভিজিট’ অপশন ব্যবহার করে যাওয়ার কারণ জানানো যাবে।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণত নাগরিকেরা সরাসরি ভূমি অফিসে গিয়ে বিভিন্ন সেবা নেন। তাই সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা মানসম্মত সেবা নিশ্চিতের অন্যতম শর্ত। ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত ভূমি কার্যালয়গুলো সরেজমিনে নিয়মিত তদারকি করা সময়সাপেক্ষ। এ অবস্থায় অবস্থানভিত্তিক অনলাইন যাচাইয়ের মাধ্যমে উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে তদারকি আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
তিনি জানান, পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হবে। প্রয়োজনীয় সংশোধন ও উন্নয়নের পর পর্যায়ক্রমে দেশের বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোকে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পাইলটিং চলমান ছয় জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।









