ভারতের বিহারে আবার শুরু হয়েছে গল্লি রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মাকে অবমাননার অভিযোগ এনে কয়েক সপ্তাহ আগে রাকেশ সরকার ও কংগ্রেস জোটকে নিশানা করার পর এবার বিজেপি তেজস্বী যাদবের সভায় একই ধরনের স্লোগান উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিহারের প্রধান বিরোধী দল আরজেডি অভিযোগটি খারিজ করেছে। তারা বলেছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি আরজেডিকে বদনাম করার জন্য ভিডিও সম্পাদনা করেছে।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে বিজেপির বিহার ইউনিট সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক ভিডিও শেয়ার করে যেখানে তেজস্বী যাদবকে একটি সভায় বক্তৃতা দিতে দেখা যাচ্ছে। তেজস্বী যাদব বর্তমানে ‘বিহার অধিকার যাত্রা’ নামের প্রচারাভিযানে রয়েছেন। ভিডিওতে বিজেপি দাবি করেছে, একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মাকে গালি দিচ্ছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তেজস্বী আবারও তাঁর সভায় মোদীজির মাকে গালিগালাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। আরজেডি-কংগ্রেসের একটাই কর্মসূচি মায়েদের ও বোনেদের অপমান করা। তাদের হতাশা চরমে পৌঁছেছে। বিহার কখনোই মাকে গালি দেওয়ার কথা ভুলবে না। বিহারের মায়েরা ও বোনেরা সমস্ত গালিগালাজের জবাব দেবে।
আরজেডির মেহুয়া কেন্দ্রের বিধায়ক ড. মুকেশ রোশন বলেন, তেজস্বী নিজের ভোট ক্ষেত্র থেকে বক্তৃতা দিয়েছেন, পুরো বক্তৃতা ফেসবুকে পাওয়া যায়। কোন আরজেডি কর্মী বা অন্য কেউ প্রধানমন্ত্রীকে গালি দেয়নি। বিজেপির শেয়ার করা ভিডিও সম্পাদিত। এতে তেজস্বীর কথা শোনা যায় না। এটি একটি ষড়যন্ত্রের অংশ।
এর আগে, দারভাঙ্গায় বিরোধী জোটের মঞ্চ থেকে একদল তরুণের গালি দেওয়ার ঘটনায় বিজেপি আরজেডি-কংগ্রেসকে তোপ দিয়েছিল।
এই বিতর্কের মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, গালিগালাজ শুধুমাত্র তার মায়ের জন্য নয়, কোটি মায়ের জন্য। রাজকীয় পরিবারের প্রিন্সরা একজন গরীব মায়ের কষ্ট বোঝেন না। তারা বিশ্বাস করে বিহারের ক্ষমতা তাদের পরিবারের, কিন্তু আপনি এক দরিদ্র মায়ের সন্তানকে প্রধান সেবক করেছেন। তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও আরজেডি প্রধান তেজস্বী যাদবের উদ্দেশে ইঙ্গিত করে এ কথা বলেন।
নরেন্দ্র মোদি আরও যোগ করেন, বিহারের মানুষের সামনে যারা আমার মাকে গালি দিয়েছে, আমি বলি, মোদি হয়তো একবার ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু বিহারের মাটি ও ভারত কখনও মাকে অপমান সহ্য করেনি।
কংগ্রেস ও আরজেডি নেতা দাবি করেছেন, গালি দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী বা তেজস্বী মঞ্চে ছিলেন না এবং বিজেপি রাজনৈতিক লাভের জন্য বিষয়টি বড় করছে।









