ভারতের বেঙ্গালুরুর উদ্যোক্তা কুশল রেড্ডি ও চাহাক জৈনের প্রথম ব্যবসা ছিল ক্লাউড কিচেন। এতে বিনিয়োগ করেছিলেন ৪ লাখ রুপি। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্ডার না পাওয়ায় সেই ব্যবসা শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে হয়। তবে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন ব্যবসায় নেমে মাত্র ১০ মাসে প্রায় ২ কোটি রুপি আয় করেছে তাদের নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিয়েড’।
বুধবার ২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি’র তথ্য সূত্রে, বেঙ্গালুরুর জেপি নগরে ফুড ট্রাক দিয়ে ‘ক্রিয়েড’ নামে ব্যবসা শুরু করেন এই দম্পতি। প্রতিষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ ফ্রাইড চিকেন ও পনির বার্গার। পাশাপাশি মেনুতে রয়েছে চিকেন পপকর্ন, চিকেন স্ট্রিপস ও ফ্রাইস।
প্রথম ব্যবসায় সমস্যার অন্যতম কারণ ছিল অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের উচ্চ কমিশন, বিজ্ঞাপন খরচ এবং সরাসরি অর্ডারের ঘাটতি। এসব কারণে প্রত্যাশিত বিক্রি না হওয়ায় ৪ লাখ রুপি বিনিয়োগের সেই ক্লাউড কিচেন বন্ধ করে দেন তারা।
এরপর ব্যবসার ধরন বদলের পাশাপাশি বিপণন কৌশলেও পরিবর্তন আনেন কুশল ও চাহাক। নতুন ফুড ট্রাক তৈরি হওয়ার সময় থেকেই চাহাক ইনস্টাগ্রামে এর প্রস্তুতির ভিডিও ও বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করতে থাকেন। ফলে ফুড ট্রাক চালুর আগেই ‘ক্রিয়েড’-এর ইনস্টাগ্রাম অনুসারী পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফুড ট্রাকটি চালু হওয়ার প্রথম দিনই সেখানে ১০০ জনের বেশি ক্রেতা আসেন। প্রথম তিন দিনে বিক্রি হয় প্রায় ৩০ হাজার রুপির খাবার।
এরপর দ্রুত বাড়তে থাকে ব্যবসা। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ থেকে ৪৫০ জন ক্রেতাকে খাবার পরিবেশন করছে ‘ক্রিয়েড’। দৈনিক বিক্রি প্রায় ১ লাখ রুপি। আর ব্যবসা শুরুর ১০ মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির আয় প্রায় ২ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ক্যাপিটাললেন্সের প্রথাম নামের এক ব্যক্তি এক্সে এই ব্যবসার সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন। সেখানে ৪ লাখ রুপি বিনিয়োগের ব্যর্থ ক্লাউড কিচেন থেকে মাত্র ১০ মাসে প্রায় ২ কোটি রুপির ব্যবসায় পরিণত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্যোক্তা দম্পতির গল্পটি আলোচনায় আসে।
ব্যবসার এই সাফল্যের পর এখন ফুড ট্রাকের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন কুশল ও চাহাক। তারা বড় একটি কেন্দ্রীয় রান্নাঘর স্থাপন এবং ভবিষ্যতে ফাস্ট-ক্যাজুয়াল রেস্তোরাঁ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ব্যর্থ প্রথম উদ্যোগকে শেষ হিসেবে না দেখে সেটি থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন ব্যবসার মডেল, নির্দিষ্ট পণ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগে থেকেই ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরির কৌশলই ‘ক্রিয়েড’-এর সাফল্যের মূল কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









