ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি গাজীপুর জেলার গাছা থানার কুখ্যাত প্রতারক ও ভূমিদস্যু সালাউদ্দিন সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
আজ শনিবার ভোরে বিশেষ অভিযানে চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শফিকুল জানান, তার বিরুদ্ধে ছাত্র হত্যা, জমি দখল, প্রতারণাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জমির জাল দলিল তৈরি করে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে আসছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তিনি গাছা থানায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। ভূমি দখল ও প্রতারণাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ভূমিদস্যু ও প্রতারক সালাহউদ্দিনের সহযোগী দল রয়েছে। অন্যতম সহযোগী তার শ্যালক রনি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঘটে যাওয়া ছাত্র-জনতা হত্যাকাণ্ডেও সালাহউদ্দিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। গাজীপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মামলায়, এই হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা। মো. মিজানুর রহমানের দায়ের করা এই মামলায় সালাউদ্দিন ১১৬ নম্বর আসামি।
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সালাউদ্দিন নিজের রাজনৈতিক পরিচয় পাল্টে ফেলার চেষ্টা চালান। তিনি নিজেকে বিপ্লবী ও বিএনপি কর্মী হিসেবে প্রচার করতেন বলেও জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও আবেগী বার্তা দিয়ে মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছিলেন। তবে তদন্তে তার আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে।
গাছা মেট্রো থানার শ্রমিক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে নেতৃত্ব দেয়ার ছবি ও পোস্টারে তার উপস্থিতি দেখা গেছে। তিনি শ্রমিক লীগের সভাপতি পদপ্রার্থীও ছিলেন।
ডিবি পরিদর্শক শফিকুল আরও জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতির আত্মীয় পরিচয়ে দীর্ঘদিন থেকেই প্রতারণা করছিলেন সালাহউদ্দিন। সিআর মামলা নং ২৪৯/২৪ অনুযায়ী, সালাউদ্দিন সরকার জমির জাল দলিল তৈরি করতেন। তিনি মূল মালিকের ছবিতে অন্যজনের ছবি বসিয়ে ভুয়া দলিল তৈরি করতেন। পিবিআই এবং সিআইডির ফরেনসিক প্রতিবেদনে তার এই প্রতারণার বিস্তারিত উঠে এসেছে।
বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।









