মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেনা। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এর আপিল বিভাগ তাকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে।
আজ রোববার ৬ আগস্ট মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট শুনানির শেষে এই রায় ঘোষণা করেছেন।
এর আগে গত সপ্তাহে জেল থেকে আইনজীবীর মাধ্যমে আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীতা জমা দেয় সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। পরে ইসি প্রার্থিতা বাতিল করে দিলে ইয়ামিনের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। আপিল বিভাগ ও একই রায় দেওয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
প্রার্থিতা বাতিলের কারণ
দুর্নীতি ও অর্থপাচার মামলায় মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের বিরুদ্ধে একটি প্রাইভেট কোম্পানির কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে গতবছর ২৫ ডিসেম্বর ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।
এছাড়া তাকে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইয়ামিন। এর আগে ২০১৯ সালে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ১০ লাখ ডলার আত্মসাতের জন্য তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছিল।
তার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে, সংবিধানের ১০৯ (ফ) অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে ইসি বলেন, কোনো নাগরিক ১২ মাসের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তার সাজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা আদালত তাকে ক্ষমা না করা পর্যন্ত সেই প্রার্থী নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হবেন।
২০১৮ সালে ক্ষমতা হারান আবদুল্লা ইয়ামিন। তবে এই বছরের মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রগ্রেসিভ পার্টি থেকে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। রায়ের পরে বিরোধীদলীয় নেতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুম মালদ্বীপের প্রগ্রেসিভ পার্টি (পিপিএম) এবং পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেস (পিএনসি) নিয়ে গঠিত বিরোধী জোটকে আগামী নির্বাচন বয়কট করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এখন পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দিয়েছে ১২ জন যাদের মধ্যে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে আছে। তারা হলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদ, মালদ্বীপ ন্যাশনাল পার্টির (এমএনপি) চেয়ারপারসন মোহাম্মদ নাজিম এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উমর নাসির।
মোহাম্মদ মাহামুদুল, মালদ্বীপ থেকে









