বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা ফি দ্বিগুণেরও বেশি করেছে অস্ট্রেলিয়া। রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসীদের লাগাম এবং আবাসন বাজারের ওপর তীব্র চাপ থাকায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে অস্ট্রেলীয় সরকার।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
স্ট্রেলিয়াতে পড়াশোনা করেন ২১ বছর বয়সি ভারতের হায়দ্রাবাদের নাগরিক অনন্যা গুপ্তা। অস্ট্রেলিয়াতেই তার পড়াশোনা শেষ করার স্বপ্ন ছিল।
গত জুলাই মাসে মেলবোর্নের মোনাশ ইউনিভার্সিটিতে তার স্নাতক ডিগ্রী শেষ করার পর, তিনি একজন সমাজকর্মী হওয়ার জন্য তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য আবেদন করেছিলেন। অনন্যা গুপ্তা বলেন, আমি সত্যিই এখানে পড়াশোনা করতে চাই, আমার দক্ষতা দিতে চাই এবং সমাজে অবদান রাখতে চাই।
তবে অস্ট্রেলিয়ার সরকারের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমানোর পরিকল্পনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অনন্যা গুপ্তাসহ অনেকেই।
অস্ট্রেলিয়ান সরকারের নতুন শিক্ষা নীতি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনের উপর ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয়তা আরোপ করেছে, এবং যারা অস্ট্রেলিয়াতে আরও অধ্যয়ন করতে চায় তাদের ইংরেজির উপর বেশি যাচাই-বাছাই হবে। পাশাপাশি অ-ফেরতযোগ্য ভিসা আবেদন ফিও দ্বিগুণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে পারে। কারণ এর ফলে অনেকেই চাকরি হারাতে পারে যা অস্ট্রেলিয়ার সুনামকে বিশ্বে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা গ্রুপ অফ এইট (জিও৮) এর ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ ম্যাথিউ ব্রাউন বলেছেন, এই পরিবর্তন বলে যে অস্ট্রেলিয়া এমন পরিবর্তনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত না।
অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশী শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষার্থীদের গড়ের প্রায় দ্বিগুণ অর্থ প্রদান করেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের রাজস্ব হার ৪০ শতাংশ বেশি।
কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবেনিজ আবাসনের ক্রয়ক্ষমতার উন্নতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়-সংকট কমানোর আশায় অভিবাসনের রেকর্ড মাত্রা কমানোর জন্য চাপের সম্মুখীন হয়েছেন।
চলতি বছরের মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন বিষয়ে প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক অভিবাসনের প্রকৃত হার ৬০ শতাংশ বেড়ে ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০-তে দাঁড়িয়েছে।
ফি বাড়ানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ও কানাডার তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করাটা এখন অনেক বেশি ব্যয়সাপেক্ষ হবে। যুক্তরাষ্ট্রে আবেদনের ক্ষেত্রে একজন বিদেশি শিক্ষার্থীকে ১৮৫ মার্কিন ডলার এবং কানাডায় আবেদনের ক্ষেত্রে ১৫০ কানাডীয় ডলার খরচ করতে হবে।
তবে অস্ট্রেলিয় সরকার বলছে, ভিসা নিয়মের ফাঁকফোকরের সুযোগে অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় তাদের অবস্থানের মেয়াদ বাড়াতে থাকে। ২০২২-২৩ সালে দ্বিতীয় বা পরবর্তী স্টুডেন্ট ভিসায় ছাত্রদের সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়ে দেড় লাখের বেশি হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিলো অস্ট্রেলীয় সরকার।









