‘যুদ্ধ শুরু করে বোকা নেতারা। আর এই বোকা নেতাদের কারণে বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে বিমানভাড়ায়।’ এমন মন্তব্য করেছেন ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের পরোক্ষ সমালোচনা করে ব্র্যানসন বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কোনো প্রয়োজন ছিল না। এই সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে মূল্যস্ফীতিতেও।
ব্র্যানসন বলেন, ‘ইরান সংঘাত সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ছিল। ইরান ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে একটি পারমাণবিক চুক্তি ছিল, যা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ইউরোপের অনেক নেতার আলোচনার মাধ্যমে হয়েছিল।’
তার ভাষ্য, চুক্তিটি কার্যকর ছিল। তাই সেটি বাতিল করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এর অন্যতম পরিণতি হয়েছে মূল্যস্ফীতি।
ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে ইউরোপের বেঞ্চমার্ক জেট ফুয়েলের দাম প্রতি টনে প্রায় ৮০০ পাউন্ড ছিল। সংঘাত শুরুর পর তা দ্রুত বেড়ে এপ্রিলে ১ হাজার ৮০০ পাউন্ডের বেশি হয়। বর্তমানে দাম কিছুটা কমে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ পাউন্ডে রয়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে মে মাসে টিকিটের সঙ্গে অতিরিক্ত ফুয়েল সারচার্জ যুক্ত করে ব্র্যানসনের বিমান সংস্থা ভার্জিন আটলান্টিক। এতে ইকোনমি শ্রেণির টিকিটে ৫০ পাউন্ড, প্রিমিয়াম শ্রেণিতে ১৮০ পাউন্ড এবং বিজনেস শ্রেণিতে ৩৬০ পাউন্ড পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হয়েছে।
ভার্জিন আটলান্টিকের প্রধান নির্বাহী কর্নিল কোস্টার বলেন, বর্তমান জ্বালানির দামের পরিস্থিতিতে এই সারচার্জ প্রয়োজনীয়। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে এখন আশাবাদী হওয়া কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংঘাত শুরুর পর ভার্জিন আটলান্টিকের কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী বিমান সংস্থাও ভাড়া বাড়ানোর পাশাপাশি ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়েছে। এপ্রিল মাসে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টেনিওর এক বিশ্লেষণে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের পর বিমানভাড়া ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের কারণে চলতি সপ্তাহে শীতকালীন ফ্লাইট সূচি কমানোর ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা রায়ানএয়ার। জেট ফুয়েলের দাম আগামী গ্রীষ্ম পর্যন্ত বাড়তে থাকলে ইউরোপের স্বল্প দূরত্বের রুটে বিমানভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে উচ্চ ব্যয় সত্ত্বেও শীতকালীন সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন কোস্টার। কয়েক মাস আগেই শীতকালীন ফ্লাইটের সক্ষমতা সামান্য কমানো হয়েছে। শীতের সময়ে কোনো রুটে চাহিদা কম থাকলে সেখানে ফ্লাইট সংখ্যা কিছুটা কমানো হতে পারে। তবে বড় মাত্রায় সক্ষমতা কমানোর পরিকল্পনা নেই।
ভার্জিন আটলান্টিক জানিয়েছে, শীতকালেও তারা নিয়মিত সূচির প্রায় ৯৫ শতাংশ ফ্লাইট পরিচালনা করবে।









