গ্রুপ পর্যায়ের তিনটি ম্যাচ এবং ৩২ দলের রাউন্ডের একটি ম্যাচ, এই মোট চার ম্যাচ খেলার পর অনেকেরই মনে হয়েছে ব্রাজিল এখন ধাপে ধাপে তাদের প্রকৃত খেলা উপহার দেওয়ার পথে। আর এভাবেই চ্যাম্পিয়নশিপের দিকে এগিয়ে যাবে দলটি। প্রায় নেইমারবিহীন ব্রাজিল এখন আরও আলোকিত এবং সংগঠিত। কোচ কার্লো আনচেলত্তির দল আজ মধ্যরাতে গ্রুপ ষোলোর লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ নরওয়ের বিপক্ষে আরও উন্নত ও দৃষ্টিনন্দন খেলা উপহার দেবে বলে ফুটবল বিশ্লেষক ও ব্রাজিল অনুসারীদের বদ্ধমূল ধারণা।
মধ্যরাতেই জমে উঠবে ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যেকার অনিঃশেষ লড়াই। নরওয়ে এই বিশ্বকাপে নিজেদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েই শেষ ষোলোতে উঠে এসেছে। দল হিসেবে নরওয়ে যতটা না মার্কামারা তারচেয়ে বেশি ভারি দলের স্ট্রাইকার আর্লিং হল্যান্ড। বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। তরুণদের কাছেও ভীষণ প্রিয়। আর্লিং হালান্ডের কারণেই ভাবা হচ্ছে ব্রাজিল ও নরওয়ের ম্যাচটা হবে ভীষণ প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং আনন্দময়। অনেকেই ভাবছেন আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের ম্যাচের যে উত্তেজনা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল হয়ত এই ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেশি ছড়িয়ে পড়তে পারে। স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড ম্যাচ ব্রাজিলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে পারে।
একটা দারুণ ম্যাচের স্বপ্ন তাই এখন সবাইকে তাড়া করছে। ব্রাজিল বা নরওয়ে কারও পক্ষেই বাড়তি কিছু বলা সম্ভব না। সবার ধারণা ম্যাচ হবে ফিফটি ফিফটি। তবে সামান্য এগিয়ে আছে ব্রাজিল। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের ভাষায় ব্রাজিল মাঠে বল দখলে রেখে তীব্র আক্রমণ করতে পারে। উইং দিয়ে দ্রুত আক্রমণ করে প্রতিপক্ষের ডি বক্সে ঝড় তুলতে পারে। ব্রাজিলের খেলার অন্যতম সৌন্দর্য এটি। ফলে আজও ব্রাজিলে কাসেমিরো, কুনহা সেটাই করবে। কিন্তু সংশয়টা হল- কাউন্টার অ্যাটাকে কখনও কখনও তারা বড্ড বিপন্ন হয়ে পড়ে। নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড সেই অ্যাট্যাকে কোন দুঃস্বপ্ন ডেকে না আনে ব্রাজিলের জন্য।
নরওয়ের শক্তিশালী দিকের মধ্যে অন্যতম হল আর্লিং হালান্ডের মতো একজন পারফেক্ট ফিনিশার রয়েছেন। যিনি যেকোনো মুহূর্তে গোল করার অদম্য ক্ষমতা রাখেন। আবার নরওয়ের রক্ষণও বেশ শক্তপোক্ত। নরওয়ের রক্ষণ ভেদ করে তাই ব্রাজিল কত দ্রুত স্কোর করতে পারে সেটাও জটিল এক প্রশ্ন। ফলে দ্রুতই ফল আসবে এমন ভাবার কােন কারণ নেই।
এতক সব সংশয়ের পরেও ব্রাজিলকেই আজকের ম্যাচে অনেক অনেক এগিয়ে রাখছেন আশির দশকের তারকা ফুটবলার রেজাউল করিম রেহান। আজকের ম্যাচে ব্রাজিল জয়ী হবে তিনি বিশ্বাস করেন। রেহান বললেন, ‘ব্রাজিলের খেলার প্রোগ্রেশনটা ভালো লাগছে। ধাপে ধাপে তারা ম্যাচের স্পিরিট বাড়িয়েছে। ম্যাচের দ্যূতি বাড়িয়েছে। প্রথমে তাদের খেলা দেখে ব্রাজিল ভক্তরা খুশি হননি সত্য। কিন্তু জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের খেলা ছিল অনেকবেশি গোছানো এবং আক্রমণাত্মক। কেননা জাপান সহজে ছেড়ে দেওয়া দল না। ব্রাজিল সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এক দল।’
রেহান নিজেও ব্রাজিলের সমর্থক। সেই খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই আজ অব্দি এই দলের খেলার প্রতি অনুরক্ত। তবে মরক্কোর অলআউট খেলাও এবার তার পছন্দ। এমন কী ইরানের খেলাও তার ভাল লেগেছে। রেহান আশির দশকে ঢাকার মাঠে এক বড় সময় ধরে খেলেছেন। ‘৮৩-‘৮৪ মৌসুমে মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদের খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম বিভাগে ফুটবল লিগে যাত্রা শুরু করেন। এরপর দীর্ঘসময় ধরে খেলেছেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও আবাহনী ক্রীড়া চক্রে (সেই সময়ের নাম)। জাতীয় দলের হয়েও দীর্ঘদিন রক্ষণ সামলিয়েছেন। রাফ এন্ড টাফ স্টপার হিসেবে তার সুখ্যাতি ছিল। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। ‘৯৭ সালে ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর যুক্তরাজ্যে চলে যান। ওখানেই থিতু হয়েছেন। রেহান ব্রাজিলের সমর্থক হলেও ইংল্যান্ডের জন্যও তার প্রচণ্ড ভালোবাসা রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন ইংল্যান্ড এবার ফাইনালের দিকে যাবে।
সবশেষে রেহান আরও বললেন, ‘ব্রাজিল তো ব্রাজিলই। যদিও আজকের ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচে। তারপরেও এমন ম্যাচে ব্রাজিল নিজস্ব কিছু কৌশল প্রয়োগ করবে। আর ডাগআউটে তাদের কোচ তো সংকল্পবদ্ধ হয়ে বসেই থাকবেন। সবমিলিয়ে মনে হয় ব্রাজিলই জিতবে। আর ব্রাজিল জিতলে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে রঙটা নষ্ট হবে না, আরও প্রজ্জ্বলিত হবে। কেননা এই দলের ফুটবল অনুরাগীর শেষ নেই। সবাই আনন্দ করতে চায়। সেই আনন্দটা অক্ষুণ্ণ থাকুক। ব্রাজিল জিতলে আমিও আনন্দিত হব।’









