অক্টোবরে বসছে ফিফা কাউন্সিল, তার আগে হঠাৎ সদস্য দেশগুলোকে চিঠি পাঠালেন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এখন আলোচনার বিষয়, কী আছে চিঠিতে। ফিফার প্রতিযোগিতার মালিকানা বিক্রয়ের পরিকল্পনা নেয়ার সময়, তার পদে থাকা নিয়ে বেশ সংশয় শুরু হয়েছিল। সে ব্যাপারে নয়, সংস্থাটির পরিচালনা ব্যবস্থার একটি স্বাধীন পর্যালোচনার জন্য সংস্কার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্পের ব্যর্থতার পর তীব্র যাচাই-বাছাই ও সমালোচনার মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। আগামী ১৫ অক্টোবর নির্ধারিত পরবর্তী ফিফা কাউন্সিল বৈঠকের আগে সকল কাউন্সিল সদস্য এবং ২১১টি সদস্য সংস্থাকে সংস্কারের প্রস্তাবের রূপরেখা দিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন এ সভাপতি।
চিঠিতে ইনফান্তিনো লিখেছেন, ‘আমি পরিষদকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, তারা ফিফার প্রধানের কৌশলগত উদ্যোগগুলোর জন্য বর্তমান পরিচালন কাঠামোর একটি বাহ্যিক, স্বাধীন মূল্যায়ন করাতে এবং সম্ভাব্য উন্নতির জন্য সুপারিশ করতে ইচ্ছুক কিনা।’
‘ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়ে কনফেডারেশন ও সদস্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে একটি সরাসরি সুসংগঠিত সময়সীমা পরামর্শ সভা স্থাপনের জন্য আমি পরিষদকে প্রস্তাব দিবো।’
ফিফা বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রয়ের পরিকল্পনা ইনফান্তিনোর প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত প্রকাশ্যে আসে। যা তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয় এবং সদস্য সংগঠনগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার বেশ কয়েকজন সদস্যসহ কিছু শীর্ষস্থানীয় সদস্য ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। তারা ফিফা টুর্নামেন্ট বয়কট করার হুমকিও দেয়।
সে প্রসঙ্গে সভাপতি চিঠিতে লিখেছেন, ‘ফিফার পরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই এবং কাউন্সিল ও সদস্য সংগঠনগুলোর কাছে প্রস্তাবটি পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করার আগেই তা প্রকাশ্যে চলে আসে। স্বীকার করি যে, সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট ছাড়া এটি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। এমনকি এধরনের ধারণা তৈরি করেছিল যে, সিদ্ধান্তগুলো ইতিমধ্যেই নেয়া হয়ে গেছে। কিন্তু তা আসলে হয়নি।’
‘এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করার অর্থ এই নয় যে, ফিফার সাফল্যের ফল থেকে প্রাপ্ত সম্পদের একটি বড় অংশ ফুটবলে বিনিয়োগে আমাদের দায়িত্ব কমে যাবে। আমরা ফিফার সম্পদ বাড়ানোর জন্য টেকসই উপায় গ্রহণ করতে থাকব।’
২০২৭ সালের মার্চে ৫৬ বর্ষী এ ফিফা প্রধান চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রার্থী জমা দেয়ার শেষ তারিখ চলতি বছরের ১৮ নভেম্বর।









