বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা প্রচণ্ড শক্তিতে এগিয়ে আসছে উপকূলের দিকে। রোববার (১৪ মে) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানতে পারে ভূভাগে। মোখার প্রভাবে ইতিমধ্যে উপকূলীয় এলাকার আবহাওয়া মেঘাচ্ছন্ন ও হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। দিন যতই ঘনিয়ে আসবে অতি ভারী বৃষ্টি হবে উপকূলে এবং অন্যান্য স্থানে।
আবহাওয়াবিদদের ধারণা, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র মিয়ানমারের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশেরও যথেষ্ট ঝুঁকি আছে।
বিভিন্ন স্যাটেলাইট চিত্র এ বিষয়ে তাদের মতো করে তথ্য প্রচার করতে শুরু করেছে। আসুন দেখে নেয়া যাক স্যাটেলাইট তথ্যমতে কোথায় আঘাত হানতে পারে অতিপ্রবল এই ঘূর্ণিঝড়টি।
বহুল প্রচলিত আবহাওয়া বিষয়ক ওয়েবসাইট উইন্ডি ডট কমের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড় মোখা ১৪ মে (রোববার) সকালের পর থেকে টেকনাফের খুব কাছ দিয়ে এবং সরাসরি সেন্টমার্টিন দ্বীপের উপর দিয়ে প্রবল বেগে মিয়ানমারের ভূখন্ডে প্রবেশ করবে। যার প্রভাব বাংলাদেশের উপরে বেশ ভালভাবেই পড়বে। পরে তা মিয়ানমারের মূল ভূখন্ডের দিকে যেতে যেতে শক্তি হারাবে।
আরেকটি জনপ্রিয় আবহাওয়া বিষয়ক ওয়েবসাইট মেটোব্লু ডট কমের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড় মোখা ১৪ মে (রোববার) প্রায় একই সময়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপের আরেকটু পাশ দিয়ে মিয়ানমারের উপকূলবর্তী সিত্তুই ও কায়েকফু এলাকায় আঘাত হানবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূখন্ডে প্রভাব কম পড়তে পারে।

এছাড়া বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট সূত্রে ঘূর্ণিঝড় মোখার গতিপথ অনুসারে এটি সেন্টমার্টিনের পাশ দিয়ে সরাসরি মিয়ানমারের ভূখন্ডে আঘাত হানবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শনিবার সন্ধ্যা থেকেই এর ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ প্রবেশ করবে। ঘূর্ণিঝড়টির অর্ধেক অংশ বাংলাদেশের ওপরে বাকিটা মিয়ানমারের উপকূলে থাকতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র মিয়ানমারের সিত্তুই ও কায়েকফু এলাকায় আঘাত হানতে পারে বলে মনে হচ্ছে। তবে এতে বাংলাদেশ ঝুঁকিমুক্ত নয়। কারণ ঘূর্ণিঝড়ের অর্ধেক কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের অংশ দিয়ে যাবে, সেই অংশটায় ব্যাপক বৃষ্টি হবে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে।
অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা নেয়া হয়েছে উপকূলীয় জেলাগুলোতে।









