ফিলিপিন্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট দুতার্তে দেশটির একটি সিনেট তদন্তে স্বীকার করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে দক্ষিণ ফিলিপাইনের একটি শহরের মেয়র থাকাকালীন কিছু গ্যাংস্টারের সমন্বয়ে একটি ‘ডেথ স্কোয়াড’ বা গুপ্তহত্যার বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। তবে তার মতে, তিনি এটা করতেন অন্য অপরাধীদের হত্যা করার জন্য।
আজ (২৯ অক্টোবর) একটি প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বিবিসি জানিয়েছে, ফিলিপিন্সের সরকারি পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী, দুতার্তে দেশটির প্রেসিডেন্ট থাকার সময় অবৈধ মাদকের বিরুদ্ধে বিতর্কিত অভিযানে ৬ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্তের শুনানিতই তিনি ডেথ স্কোয়াডের বিষয়টি স্বীকার করেন।
শুনানিতে দুতার্তে বলেন, অফিসারদের প্রতি আমার নির্দেশ ছিল। অপরাধীদের লড়াই করতে উৎসাহিত করুন। তাদের হাতে বন্দুক তুলে নিতে উৎসাহিত করুন। তাদের যুদ্ধ করতে উৎসাহিত করুন। আর যখন তারা যুদ্ধ করবে তখন তাদের হত্যা করুন, যেন আমার শহরের সমস্যা কেটে যায়।
অবৈধ মাদকের বিরুদ্ধে বিতর্কিত অভিযানে ৬ হাজারের বেশি মানুষ হত্যার অভিযোগ থাকলেও স্থানীয় এনজিওগুলোর দাবি, সেই সময় ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করে নিরাপত্তা বাহিনী। এমনকি মাদকের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র আছে, এমন প্রমাণ ছাড়াই সেসময় অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
দুতার্তের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক অনেক মানুষকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে। দুতার্তের আমলের হত্যাকাণ্ড নিয়ে এখন রাষ্ট্র অনুমোদিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তদন্ত করছে। শুনানির সময় দুতার্তের আমলে নিহত অনেকের পরিবারের সদস্যরা ভবনের বাইরে জড়ো হয়।
শুনানির আগে প্রাথমিক বিবৃতিতে দুতার্তে বলেছেন, আমার নীতি নিয়ে প্রশ্ন করবেন না। কারণ, আমি কোনো ক্ষমা চাই না, অজুহাত দিই না। আমার যা করার ছিল তা আমি করেছি। আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন, আমি এটি আমার দেশের জন্য করেছি।









