১২ হাজার ৫০০ বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল ভয়ংকর শিকারি প্রজাতির নেকড়ে, ‘ডাইর উলফ’। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সেই প্রজাতিকে আবার ফিরিয়ে এনেছেন আধুনিক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্লোনিং ও প্রাচীন ডিএনএ ব্যবহার করে।
আজ (৮ এপ্রিল) মঙ্গলবার একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক বায়োটেক প্রতিষ্ঠান ক্লোসাল বায়োসায়েন্স এই যুগান্তকারী কাজের নেতৃত্ব দিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় জন্ম নেওয়া তিনটি শাবকের মধ্যে দুটি পুরুষের নাম রাখা হয়েছে রোমুলাস ও রেমুস।
ক্লোসাল জানিয়েছে, তারা প্রায় ১৩ হাজার বছর পুরনো দাঁতের ডিএনএ এবং ৭২ হাজার বছর পুরনো খুলির নমুনা থেকে জেনেটিক তথ্য সংগ্রহ করে এই শাবকগুলো সৃষ্টি করেছে। তারা এখন ছয় মাস বয়সী হলেও দৈর্ঘ্যে প্রায় চার ফুট এবং ওজনে ৩৬ কেজিরও বেশি। আর তৃতীয় শাবকটি একটি মেয়ে, যার জন্ম হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি।

ডাইর উলফের ঘন লোম, শক্তিশালী চোয়াল ও বড় আকার তাদের সাধারণ ধূসর নেকড়ের থেকে আলাদা করে। যদিও ধূসর নেকড়েই ব্যবহার করা হয়েছে ডাইর উলফের ক্লোনিংয়ের ভিত্তি হিসেবে। প্রাচীন ডিএনএ থেকে প্রজাতি ফিরিয়ে আনার এটি ক্লোসাল বায়োসায়েন্সর প্রথম সফল প্রকল্প।
তবে শাবক তিনটির আচরণ রয়েছে গবেষকদের ভাবনায়। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ নেকড়ের মতো তারা মানুষের প্রতি কোনো প্রকার আগ্রহ বা উচ্ছ্বাস দেখায় না। বরং তারা নিঃসঙ্গ থাকতে পছন্দ করে। এমনকি যিনি তাদের জন্ম থেকেই দেখভাল করছেন, তার সঙ্গেও তারা খুব একটা সহজ হয় না।
শাবক তিনটি রাখা হয়েছে একটি গোপন স্থানে ২ হাজার একর জায়গা জুড়ে, যা ১০ ফুট উঁচু বেড়া দিয়ে ঘেরা। জায়গাটি নিরাপত্তা রক্ষী, ড্রোন ও লাইভ ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ক্লোসালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে আরও কয়েকটি বিলুপ্ত প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনা যার মধ্যে রয়েছে উলি মামথ, ডোডো পাখি ও তাসমানিয়ান টাইগার।









