ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা মেঘমল্লার বসু দ্বিতীয়বারের মতো আ’ত্মহ’ত্যা’র চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেছেন সাবেক বামরাজনৈতিক কর্মী, বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পাটি (এনসিপি) নেত্রী দিলশানা পারুল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি মেঘের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তরুণদের মানসিক চাপ, হতাশা ও একাকিত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন।
দিলশানা পারুল লিখেছেন, যারা একসময় বাসদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, দলটির ভাঙন দেখেছেন কিংবা পরবর্তী সময়ে দল ছেড়েছেন, তারা মেঘের হতাশার বিষয়টি তুলনামূলকভাবে বেশি বুঝতে পারবেন।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন নেতাকর্মীর জীবনের নানা সংকটের বর্ণনা দেন। তার দাবি, দীর্ঘ সময় ফুলটাইম রাজনীতি করার পর অনেকে মাঝ বয়সে এসে দল থেকে সরে গেলে নতুন করে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ফিরে যেতে বড় ধরনের সংকটে পড়েন।
দিলশানা ফারুল লিখেন, আমরা যারা একটা সময় বাসদ করতাম অথবা বাসদের ভাঙ্গন দেখেছি অথবা বাসদ ছেড়ে দিয়েছি আমার ধারনা মেঘের হতাশাটা সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারছি, ফিল করতে পারছি তারা।
বামরাজনীতির কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি লিখেন, ঢাকা নগরের এক বড় নেতা বোধ হয় একদিন বলছিলেন, গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজারের ওইখানে এমনকি ২০০০ সালের গোড়ার দিকেও এক পাগল ঘুরে বেড়াতো, সম্ভবত ঢাকা শহরবাসী বহু জন এই পাগল কে দেখেছে। এই পাগল ছিল ঢাকা নগরের ছাত্র ফন্টের প্রথম সভাপতি।
আরেকজন, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির টানা ১০ বছর সভাপতি থাকার পর, ফুল টাইম রাজনীতি করার পর হঠাৎ করে ৪৪ বছরে পৌঁছে এক মধ্য বয়স্ক ভদ্রলোক আবিষ্কার করলেন তিনি আর ফুলটাইম দলটি করতে পারছেন না।যেকোনো কারণেই হোক, যার সীমাবদ্ধতার কারণেই হোক এই ব্যক্তির পক্ষে দল করা আর সম্ভব না। এই ভদ্রলোক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ার পর ফুল টাইম রাজনীতি করবে দেখে আর পড়াশোনা কন্টিনিউ করেনি। জীবনে কোনদিন কোন চাকরি করেনি, ব্যবসা করেনি, রেজুমি বলে কিছু দাঁড়ায়নি। ফুলটাইম পলিটিক্স করবে বলে সবকিছু ছেড়েছুড়ে সমস্ত জীবনকে ব্যপ্ত করে রাজনীতিটাই করেছে। জীবনে কোনদিন বিয়ে করেনি, প্রেম করেনি কারণ ফুল টাইম রাজনীতি করলে প্রেম বিয়ে এই ধরনের মানবিক সম্পর্কগুলাকে এক ধরনের বিচ্যুতি, ব্যতয় বা ডিস্টার্ব হিসেবে দেখা হয়। কাজেই দল ছাড়ার পর এই লোকটি দেখলেন তার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক জীবন বলেও কিছু আর নাই। দীর্ঘ সময় ধরে দল করার কারণে ব্যক্তিগত বন্ধু-বান্ধব বলেও কিছু আর নাই। পরিবার থেকে বহু আগে বিচ্ছিন্ন হয়েছে দল করার প্রক্রিয়াটা এরকমই যেটার মধ্যে সমাজের সাথে অন্তর্ভুক্তি তো ঘটেই না, বরং সমাজের থেকে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। ৪৪ বছর বয়সে এসে দেখলেন উনি সমাজের কোথাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারছেন না, সমাজের কারো সাথে কানেক্ট করতে পারছেন না। এরকম একটা লোককে দেখেছি বছরের পর বছর নির্বাক হয়ে থাকতে।
পোস্টে তিনি দিনাজপুরের এক সাবেক ছাত্রনেতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, ২০১২-১৩ সালের দিকে বাসদের ভাঙনের পর ওই নেতা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং দীর্ঘদিন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।
দিলশানা পারুল আরও বলেন, দলীয় রাজনীতির কাঠামোর মধ্যে তরুণদের শ্রম, সময়, আবেগ ও জীবনীশক্তি ব্যবহৃত হলেও পরে অনেকেই নানা কারণে সেই কাঠামোর বাইরে পড়ে যান। তাদের জীবনে তৈরি হওয়া হতাশা ও একাকিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন বলেও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
মেঘমল্লার বিষয়ে তিনি বলেন, তার কষ্ট ও হতাশার গভীরতা যারা দীর্ঘদিন বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা অন্যদের তুলনায় বেশি বুঝতে পারেন।









