১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের অন্যতম নেতা, নরসিংদী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কামাল হায়দার মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া-ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মঙ্গলবার ৪ জুন মাগরিবের পর নিজ বাসভবনে বার্ধক্য জনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৮ বছর।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
আজ রাত ১০টা ৩০ মিনিটে তার নিজ বাসভবন ১২৭ আসিউরেন্স সিটি, বাগানবাড়ি (ঢাকা সিএমএস এর পেছনে মাটি কাটার পাশে) নিজ বাসভবন প্রাঙ্গনে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল ৫ জুন নরসিংদীর শিবপুরের বৈলাবো গ্রামে তার নিজ বাড়িতে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হবে।
কামাল হায়দারের জন্ম ১৯৪৭ সালের ২১ জানুয়ারি। ছাত্র জীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন। পরে ন্যাপের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আশির দশকে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে তিনি ১৫ দল ও আর দলীয় জোটের অন্যতম নেতা ছিলেন এবং ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন।
নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসন থেকে ১৯৮৬ সালে ৮ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কামাল হায়দার। বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের তিনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীকালে গণফোরাম ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথেও নিযুক্ত হন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা পেশায়ও যুক্ত থেকেছেন। বাংলাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলন এবং গণমানুষের রাজনীতির পক্ষে তিনি জীবনব্যাপী নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।









