ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশে বড় নাশকতার পরিকল্পনা করছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম। ডিজিএফআই এর তথ্যের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’ এর রাজধানীর আশুলিয়া, সাভার, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়কারী ও প্রশিক্ষণ শাখার প্রধান আব্দুর রাজ্জাক ওরফে ইসহাক ওরফে সাইবাসহ ০৬ সদস্যকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সকালে সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানিয়েছেন, এদের মধ্য আব্দুর রাজ্জাক ওরফে সাইবা উপমহাদেশের সমন্বয়কারি। ২০১৫ সাল থেকে আনসার আল ইসলামের সাথে যুক্ত সাইবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শীর্ষ নেতাদের তথ্য অনুসারীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। গ্রেফতাররা বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে ছদ্মবেশে অন্য পেশার আড়ালে সদস্য সংগ্রহ করে তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলো। সাইবা শরীফুলের মাধ্যমে ভারতে লোক পাঠাতো প্রশিক্ষণের জন্য।
এলিট ফোর্স জানিয়েছে, তথাকথিত জিহাদের জন্য বেশ কিছু সদস্যকে ভারতে পাঠিয়েছে জঙ্গি সংগঠনটি। কয়েকজন সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছেন। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে কুকি-চিনের সাথে অর্থ ও অস্ত্র লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেফতার বাকি ৫ সদস্য হলেন, মোঃ শরিফুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, আশিকুর রহমান ওরফে উসাইমান, মুহাম্মদ জাকারিয়া ওরফে আবরার, মোঃ আল আমিন ওরফে রবিন ওরফে সামুরা এবং মোঃ আবু জর ওরফে মারুফ। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জিহাদী ও উগ্রবাদী বই এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদী জব্দ করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতাররা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’ এর সদস্য। তারা আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানে উদ্বুদ্ধ হয়ে আল কায়েদা মতাদর্শের জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’ এর কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এ উদ্দেশ্যে সংগঠনের সদস্যদেরকে তারা বিভিন্ন উগ্রবাদি পুস্তিকা, মুসলমানদের উপর নির্যাতন ও উগ্রবাদী নেতাদের বক্তব্যের ভিডিও সরবরাহ করতো। এছাড়াও তারা সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভুল তথ্য প্রদান করে তাদের আত্মীয়-স্বজন, বিভিন্ন মাদ্রাসা ও সদস্যদের নিকট থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করতো। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তারা মসজিদ, বাসা বা বিভিন্ন স্থানে সদস্যদের নিয়ে গোপন সভা পরিচালনা করত বলে জানা যায়। এছাড়াও তারা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশের সমমনা ব্যক্তিদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখতেন এবং তারা সংগঠনের সদস্যদের তথাকথিত হিজরতের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের জন্য অবৈধ পথে পার্শ্ববর্তী দেশে প্রেরণ করতো বলে গ্রেফতাররা জানায়।
গ্রেফতার আব্দুর রাজ্জাক ওরফে সাইবা দাখিল সম্পন্ন করে ২০১৫ সালে সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে আনসার আল ইসলামে যোগদান করে। সংগঠনে যোগদানের পর সে বিভিন্ন পেশার আড়ালে সংগঠনের দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করতো। পরবর্তীতে সে সংগঠনের রাজধানীর আশুলিয়া, সাভার, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রধান সমন্বয়ক এবং প্রশিক্ষণ শাখার প্রধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়। তার সাথে আনসার আল ইসলাম এর বর্তমান আমিরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে এবং তার নির্দেশেই তিনি রাজধানীর আশুলিয়া, সাভার, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। সে অনলাইনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ ও জিহাদে উদ্বুদ্ধ করে সংগঠনের জন্য নতুন সদস্য সংগ্রহ করতো। তার নির্দেশে সংগঠনের নতুন সদস্যদের গাজীপুর, টঙ্গি ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন আনসার হাউজে তাত্ত্বিক ও শারীরিক কসরতসহ বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গোপনীয় অ্যাপস ব্যবহার করে সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতো ও শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নিকট হতে নির্দেশনা নিতো এবং সংগঠনে তার অনুসারীদের সকল প্রকার দিকনির্দেশনা দিতো।
র্যাব জানায়, এছাড়াও সে সংগঠনের সদস্যদের কাট আউট সিস্টেম সম্পর্কিত বিষয়ে মৌখিক এবং লিখিত প্রশিক্ষণ প্রদান করতো এবং কাট আউট সিস্টেম এর নীতিমালা মেনে চলার নির্দেশনা দিতো বলে জানায়। সে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশের সমমনা ব্যক্তিদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গোপন অ্যাপস এর মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখতো। তার নির্দেশনায় গ্রেফতার শরিফুল সংগঠনের বেশকিছু সদস্যকে তথাকথিত হিজরত ও বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণের জন্য অবৈধ পথে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠিয়ে ছিল বলে জানায়। সাইবার নির্দেশনায় পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠানো ৪ জন সদস্য এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হয়। সে কাশেমপুর কারাগারে গ্রেফতারকৃত আনসার আল ইসলামের সদস্যদের সাথে নিয়মিত দেখা করতো এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনদের দেখা করিয়ে দিতো বলে জানা যায়। এছাড়াও সে আনসার আল ইসলামের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় করায় সংগঠনটির অন্যতম সমন্বয়ক সাইবা হিসেবে পরিচিত পায়।
গ্রেফতার মোঃ আল আমিন ২০১৯ সালে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে আনসার আল ইসলাম সংগঠনটিতে যুক্ত হয়। সে মাদ্রাসায় শিক্ষকতার আড়ালে সংগঠনের দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করতো। পরবর্তীতে সে ২০২১ সালে আনসার আল ইসলাম এর পক্ষ থেকে নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র জন্য পার্বত্য এলাকায় মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে অর্থ সরবরাহের কাজ করতো। জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র অর্থ শাখার প্রধান গ্রেফতার মোশারফ হোসেন রাকিব এর সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। সে মোশারফ হোসেন রাকিব এর নির্দেশে কেএনএফ এর প্রশাসন ও অর্থ শাখার পাসেন মিরাম নামক ব্যক্তির নিকট মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র ক্রয়ের জন্য অর্থ প্রেরণ করতো বলে জানা যায়। এছাড়াও তার সাথে কুকি চীন এর নেতৃস্থানীদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে র্যাব।









