ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাঙ্গণে ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাস, ছাত্র ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা-নির্যাতন ও ছাত্রলীগের কালো কাপড়ে রাজু ভাষ্কর্য আবৃত করে রাখার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সাবেক ছাত্র নেতারা।
শনিবার ১৬ ডিসেম্বর গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাঙ্গণে ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাস, ছাত্র ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের ওপর উপর্যুপরি হামলা-নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন তারা। গত বৃহস্পতিবার ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মেঘমল্লার বসু, সাধারণ সম্পাদক মাইন আহমেদ, ঢাকা মহানগর সংসদের সহকারি সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ শুভ্র, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নেতা শাহারিয়ার শিহাবকে গুরুতর আহত করার ঘটনারও নিন্দা জানোচ্ছেন তরা। পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মশাল মিছিল পরবর্তী সময়ে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ছাত্রলীগ কর্তৃক কালো কাপড়ে রাজু ভাস্কর্য আবৃত করে রাখার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতারা।
বিবৃতিদাতা সাবেক ছাত্র নেতরা বলেন, খাগড়াছড়িতে চারজন রাজনৈতিক আন্দোলনের কর্মীকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল হয়। মিছিল শেষে টিএসসিতে সমাবেশ শুরু হলে ছাত্রলীগ পরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মেঘমল্লার বসু, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা নিজামউদ্দিন হৃদয়, নিনাদ খান, পূর্ণময় খিসা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নেতা মোজাম্মেল আহমেদসহ অনেকেই আহত হন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এহেন অপকর্ম ও সন্ত্রাসকে আড়াল করতে বুধবার সকাল থেকে রাজু ভাস্কর্য কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখেছে ছাত্রলীগ। তারা ছাত্র ইউনিয়নকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে রাজু ভাস্কর্যে ব্যানার টানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন নেতাকর্মীদের ওপর আবারও পৈশাচিক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। সেদিন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মিরপুর স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফেরার পর হাকিম চত্বর ও শাহবাগে নেতাকর্মীদের ওপর বর্বোরোচিত হামলা করা হয়। হামলায় মেঘমল্লার বসুর বা চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। মারাত্মক আঘাতে মাইন আহমেদ ও তাহমিদ শুভ্রর মাথা ফেটে গেছে। শাহরিয়ার শিহাব সারা শরীরে আঘাত নিয়ে চিকিৎসাধীন আছে।
প্রতিবাদ বিবৃতিতে সাবেক ছাত্র নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষ শিক্ষাঙ্গণ থেকে শুরু করে সর্বত্র ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের সাক্ষী। বিশ্বজিৎ হত্যা, আবু বকর হত্যা, আবরার হত্যাকাণ্ডের মত নারকীয় সন্ত্রাসের সাথে ছাত্রলীগ জড়িত। বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের বিভিন্ন আন্দোলনে তারা অব্যাহতভাবে হামলা-নির্যাতন-সন্ত্রাস চালাচ্ছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে কিশোর শিক্ষার্থীদের ওপর তাদের পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। বিবৃতিতে অবিলম্বে ছাত্র ইউনিয়ন ও গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের গৌরব ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল প্রতীক। এ দেশের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, শোষণমুক্তির সংগ্রামে আত্মত্যাগ করা শত শহীদের অঙ্গীকারকে বহন করে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য। ছাত্রলীগ ১২ দিন ধরে বিকটাকার কাট আউট বিজ্ঞাপন হোর্ডিং দিয়ে রাজু ভাস্কর্য ঢেকে রাখার পর গত বুধবার থেকে কালো কাপড়ে ভাস্কর্য মুড়িয়ে রাখা তাদের সীমাহীন ধৃষ্টতা। রাজু ভাস্কর্য কালো কাপড় দিয়ে সম্পূর্ণ আবৃত করে রাখার মাধ্যমে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শহীদ মইন হোসেন রাজুর সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকে অবমাননা করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ ছাত্রলীগের এই অপকর্মের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একইসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব অবসানের দাবি করেন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী হলেন- মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, রাগিব আহসান মুন্না, অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান, ইমতিয়াজ মাহমুদ, কামরুল আহসান খান, সাজ্জাদ জহির চন্দন, আব্দুল্লাহ কাফী রতন, শাহাদাত হোসেন, মাহমুদ হাসান বুলু, বাকি বিল্লাহ, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল , এস এম শুভ, মো. আলমগীর হোসেন, নীলুফার জাহান, ইফতেখার আহমেদ, মনিরা বেগম অনু, মাহবুব আরা বেগম লিনা, আমিনুল ফরিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তোষ কুমার পাল, অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র মজুমদার, গাজী আব্দুল মোতালে, তপন বসু, দিলীপ পাইক, অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন ,প্রকৌশলী নিমাই গাঙ্গুলী, ডা. মনোজ দাশ, তাহমিনা ইয়াসমীন নীলা, শিহাব চৌধুরী বিপ্লব, সুতপা বেদজ্ঞ, সিরাজুম মুনিরা সাথী, নাদিরা সলতানা নদী, আইনুননাহার সিদ্দিকা লিপি, অনিরুদ্ধ দাস অঞ্জন, সচিত্রা সরকারসহ ২১৬ জন সাবেক ছাত্রনেতা।









