কিশোরগঞ্জ শহরের খড়মপট্টি এলাকায় গৃহপালিত একটি বিড়াল মেরে ফেলায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বিড়ালটির মালিক হিল্লোল চৌধুরী জনি। বুধবার ১১ অক্টোবর দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল-আমিন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হিল্লোল চৌধুরী জনি প্রায় ১০ বছর ধরে শুধু বিড়াল নয় নানা রকম দেশী-বিদেশী প্রাণীকে ভালবেসে লালন-পালন করে আসছেন। এখনো তার বাসায় ১১টি বিভিন্ন রঙের বিড়াল রয়েছে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার মাঝেও বাসায় এসে বিশেষ সময় কাটান এদের নিয়ে। তার ভালবাসার পরশে এসব পোষা প্রাণীগুলোও তাকে অনেক ভালবাসে। তার সাথে খেলা করা, একসঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা, ডাক দিলে তার কাছে ছুটে এসে খুনসুটি করা এসব পোষা প্রাণীগুলো ধীরে ধীরে তার জীবনের অমূল্য সম্পদ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এরই মাঝে তার পোষা একটি বিদেশী ক্রস জাতের বিড়াল লায়নকে পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনায় জনি স্তব্ধ হয়েছে। এমন অবুঝ প্রাণীকেকেও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলবে এ বিষয়টি কোনোভাবেই তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই অনেক কষ্টে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জনি জানান, বিড়ালটি আমার খুব শখের ছিল। এলাকার সবাই বিড়ালটিকে খুব আদর করত। আমি প্রায় ৭ বছর ধরে বিড়ালটিকে লালন-পালন করছি। এ বিড়ালটি ছাড়াও আমার বেশ কিছু দেশী-বিদেশী পোষা প্রাণী রয়েছে। আমি ওদেরকে খুব ভালবাসি, এসব লালন-পালন করা আমার এক প্রকার নেশা। বিড়ালটি কখনও কারো কোন প্রকার ক্ষতি করেনি। লায়ন করে ডাক দিলেই ছুটে আমার কোলে চলে আসতো। কিন্তু কেন এ বিড়ালটিতে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো, আমি সেটা সহ্য করতে পারেনি। তাই থানায় ওই ব্যক্তির নামে অভিযোগ করেছি। পরে পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তার ভুল স্বীকার করে আমিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। আসলে এমন একটা ভুল করে ক্ষমা চাওয়াটা বড় কথা নয়। এমন ভুল একজন সভ্য মানুষ কেন করবে, সেটাই আমার দুঃখ।
এসআই মো. আল-আমিন জানান, গত বৃহস্পতিবার ৫ অক্টোবর রাতে একটি গৃহপালিত বিড়ালকে (লায়ন) পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ এনেছেন বিড়ালটি মালিক ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক হিল্লোল চৌধুরী জনি। পরে তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা একই এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলামের বাসায় গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। পরে তিনি তার ভুল বুঝতে পেরে বিড়ালের মালিকের নিকট ক্ষমা চেয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর কখনও করবেনা বলেও জানিয়েছেন।









