‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে প্রবীণ অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। শর্মিলাকে ‘হিন্দু-মুসলিম মানসিকতা’ থেকে বেরিয়ে এসে গানটিকে শিল্প ও কবিতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি আইএএনএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৮১ বছর বয়সী শর্মিলা ঠাকুর বলেন, ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবকই রাখা উচিত। কারণ পরবর্তী স্তবকগুলোতে হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে, যা একেশ্বরবাদী ধর্মের অনুসারীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতায় প্রশ্ন তুলতে পারে।
শর্মিলার ওই সাক্ষাৎকারের ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে প্রতিক্রিয়া জানান কঙ্গনা। তিনি বলেন, শর্মিলা ঠাকুরের নিজের মত প্রকাশের অধিকারকে তিনি সম্মান করেন। তবে একজন শিল্পী হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’-এর ব্যাখ্যা এতটা সীমাবদ্ধ ও কৃত্রিম হওয়ায় তিনি বিস্মিত।
কঙ্গনার ভাষ্য, কবিতা বা গানে ব্যবহৃত শব্দ সবসময় আক্ষরিক অর্থে নেওয়ার বিষয় নয়। শিল্পী বা কবি নানা ধরনের রূপক ও কল্পনার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত আবেগ ও প্রভাব তৈরি করেন। তাঁর মতে, ‘বন্দে মাতরম’ কেবল কোনো ধর্মীয় আচার নয়; এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি সৃষ্টি।
নিজের বক্তব্যের পক্ষে স্বামী বিবেকানন্দের একটি উদাহরণও টানেন কঙ্গনা। তিনি বলেন, বিবেকানন্দ যখন শক্তি জাগরণের আহ্বান জানিয়ে ‘লোহার মতো শরীর’, ‘ইস্পাতের হাড়’ কিংবা শিরায় ‘বজ্রের’ মতো শক্তির কথা বলেছিলেন, তখন তা আক্ষরিক অর্থে বলা হয়নি- এসবই ছিল শক্তির রূপক।
এরপরই শর্মিলা ঠাকুরকে উদ্দেশ করে কঙ্গনার মন্তব্য, ‘দয়া করে হিন্দু-মুসলিম মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন।’ তাঁর মতে, এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করলেও শক্তিকে ‘শক্তি’ বলা হয় এবং মানুষের উচিত একে অপরকে আপনজন হিসেবে গ্রহণ করা।
‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে ভারতে চলমান বিতর্কের মধ্যেই কঙ্গনার এই মন্তব্য সামনে এলো। বিভিন্ন সরকারি ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে গানটির পরিবেশন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসও তাদের ১৯৩৭ সালের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, দলীয় অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়া উচিত।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ প্রথমে ১৮৭০-এর দশকে রচিত হয় এবং পরে তাঁর উপন্যাস আনন্দমঠ-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে গানটি গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে। গানটির প্রথম স্তবকগুলো মাতৃভূমির বন্দনা করলেও পরবর্তী অংশে দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মতো হিন্দু দেবীর উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিতর্কে এর আগে অভিনেতা মুকেশ খান্নাও মন্তব্য করেছেন। তিনি ‘জন গণ মন’-এর পরিবর্তে ‘বন্দে মাতরম’কে ভারতের জাতীয় সংগীত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া









