জয়পুরহাট জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী খাজা সামছুল আলমের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি ও তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা আব্দুল আজিজ মোল্লা মাঠে থাকায় ভিন্ন মোড় নিয়েছে এ নির্বাচন।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানিয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। কিন্তু সে বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় অনেকটাই বেকায়দায় আছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ।
জয়পুরহাট জেলা শহরের রেলগেট এলাকায় অবস্থিত আব্দুল আজিজ মোল্লার মালিকানাধীন আবাসিক হোটেল সুইট ড্রীম’র নিচতলার একটি কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থন পেতে জয়পুরহাটের দশজন নেতা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। এরমধ্যে জেলার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা খাজা সামছুল আলমকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর খাজা সামছুল আলম দলীয় নেতাকর্মীসহ নির্বাচন অফিসে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন।
নেতাকর্মীরা ভেবেছিলেন অনান্যবারের মতো এবারও জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হবেন। কিন্তু একাধিক প্রার্থী থাকায় এবার আর সেটি হচ্ছে না। ভোটের মাঠে দলীয় সমর্থিত খাজা সামছুল আলমের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল আজিজ মোল্লা। এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিতে আব্দুল আজিজ মোল্লার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন নেতারা।
বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বলেন, বৈঠকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আব্দুল আজিজ মোল্লার প্রার্থীতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে আমাদের দলীয় সমর্থন পেয়েছেন খাজা সামছুল আলম। উনার অনেক বয়স হয়েছে। নেত্রী দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় আমরা তার পক্ষে কাজ করছি। তাকে বিজয়ী করতে আব্দুল আজিজ মোল্লার সঙ্গে ইতোমধ্যে সমঝোতার বৈঠক করেছি। তাকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল আজিজ মোল্লা বলেন, আজ আমাকে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা বৈঠকে বসেন। সেখানে তারা আমাকে জানান, নেত্রী যেহেতু খাজা সাহেবকে মনোনয়ন দিয়েছেন। উনার বয়সও হয়েছে, এটিই তার শেষ ইচ্ছা। তার ও নেত্রীর মান রক্ষার্থে আপনাকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য আমরা অনুরোধ করছি। আমি তাদের ঘণ্টার ওপর বক্তব্য শুনে বলেছি, আপনারা আমাকে দলেও রাখবেন না, আবার দলের বাইরে থেকে কাজ করবো তখনও অনুরোধ করবেন, এটা আবার কেমন কথা। নেত্রীর নির্দেশ তো আমার ওপর কার্যকর না। কারণ আমি তো দল থেকে বহিষ্কৃত। তাদের অনেক অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমি একটি দিন সময় নিয়েছি, আমার নিজস্ব কিছু লোকজন আছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে সোমবার আমার সিদ্ধান্ত জানাব।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান রকেট বলেন, সামনে জেলা পরিষদ নির্বাচন। বয়স্ক একজন মানুষকে নেত্রী মনোনয়ন দিয়েছে। তাকে চাপের মধ্যে না ফেলে আমরা সম্মান দিতে চাই। সেই উদ্দেশ্যেই এই বৈঠক করা হয়েছে।
ওই বৈঠকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান রকেট, সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম সোলায়মান আলী, সহ-সভাপতি এ্যাড. মোমিন আহম্মেদ চৌধুরী জিপি, এ্যাড. নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল পিপি, গোলাম হাক্কানী, মহসীন আলী, জাহিদুল আলম বেনু, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মন্ডল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক সহ দলীয় শীর্ষ পর্যায়ের ১৫-২০ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
আব্দুল আজিজ মোল্লা জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে ছিলেন। তিনি ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর-কালাই-ক্ষেতলাল) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তিনি রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে সরে যান। এখনও তাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়নি। জয়পুরহাট জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি এবার চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।









