জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপের কেন্দ্রে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর ঋণের চাপ কমিয়ে দ্রুত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘চতুর্থ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) লিডার্স মিটিং’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সিভিএফ চেয়ার ও বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বক্তব্যে সাইমুম পারভেজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত সংকট নয়, এটি অস্তিত্বের লড়াই। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো ক্রমাগত ক্ষতির মুখে পড়ছে।
তিনি বলেন, বড় একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ কোনো দেশের কয়েক বছরের উন্নয়নকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। তাই দুর্যোগের পর দ্রুত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ‘লাইফলাইন ফান্ড’ দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন।
ঋণের চাপের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। সাইমুম পারভেজ বলেন, অনেক জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ক্রমবর্ধমান ঋণের কারণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে অর্থ সরিয়ে ঋণ পরিশোধে ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থাকে এমনভাবে সংস্কার করতে হবে, যাতে কোনো দেশকে মৌলিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে একটিকে বেছে নিতে না হয়।
আসন্ন কপ৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে চারটি অগ্রাধিকার প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে পূর্বাভাসযোগ্য, সহজ শর্তের ও ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা, ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ পুরোপুরি কার্যকর করে দ্রুত অর্থ ছাড় এবং ঋণ মওকুফ ও সুবিধাজনক অর্থায়নের জন্য বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার।
এ ছাড়া জলবায়ু জবাবদিহি বাড়াতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) পরামর্শমূলক মতামত কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ জলবায়ু মোকাবিলায় নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান সাইমুম পারভেজ। তিনি বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ২০ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের দাবি তুলে ধরলে বিশ্ব তাদের উপেক্ষা করতে পারে না।









