পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য একটি সিভিল সোসাইটি প্ল্যাটফর্ম গঠিত হয়েছে। ঢাকায় একটি হোটেলে গঠিত এই প্ল্যাটফর্মটি পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের অপুষ্টি হ্রাসে বিশেষভাবে কাজ করবে।
বাংলাদেশে ম্যাক্স ফাউন্ডেশন এর নেতৃত্বে এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে ৬টি আন্তর্জাতিক (সেইভ দ্য চিলড্রেন, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট, অ্যাকশান অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার, ওয়ার্ল্ড ভিশন, সিগা ও ম্যাক্স ফাউন্ডেশন) এবং ৩টি স্থানীয় সংস্থা (এইচএলপি ফাউন্ডেশন, জাগো নারী এবং সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট এজেন্সী)। নেদারল্যান্ড সরকারের সহায়তায় পরিচালিত রাইট টু গ্রো কনসোর্টিয়াম প্রকল্পটি ২০২১ সাল থেকে শিশুপুষ্টি উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশসহ আফ্রিকার আরও ৫টি দেশে কাজ করে আসছে।
বাংলাদেশ সরকারের এসডিজি লক্ষমাত্রা ২, ৫ ও ৬ পূরণে, জাতীয় ৮ম পঞ্চবার্ষিক পকিল্পনা এবং জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা (দ্বিতীয় পর্যায়) ২০১৬-২০২৫ এর সাথে সঙ্গতি রেখে রাইট টু গ্রো অনুর্ধ্ব ৫ বছর বয়সী শিশুদের পুষ্টিমান উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। রাইট টু গ্রো সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বয়, কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে উপকূলীয় ৪টি জেলার (পটুয়াখালী, বরগুনা, খুলনা ও সাতক্ষীরা) ৫টি উপজেলার প্রশাসন এবং ৪০ টি ইউনিয়নে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
রাইট টু গ্রো কর্মসূচির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করছে এই অঞ্চলসমূহের ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিবৃন্দ, পনেরো হাজারের অধিক সুশীল সমাজ ও কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এবং দুইশো’র অধিক স্থানীয় উদ্যোক্তা। এই কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়ন পরিষদ ও কমিউনিটিতে বেশ কিছু উত্তম চর্চা বাস্তবায়িত হচ্ছে। কর্ম এলাকার বাইরেও এই উত্তম চর্চাসমূহ অনুসরিত হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রমের মাধ্যমে এই অঞ্চলসমূহের ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ফলে ২০২২ সাল থেকে তারা পুষ্টিখাতে বাজেট রাখা শুরু করে, প্রতি বছর ক্রমাগত বৃদ্ধি ও সঠিকখাতে ব্যয় করে যাচ্ছে। এই বাজেট বৃদ্ধি তদারকিতে রাইট টু গ্রো প্রকল্পের উদ্ভাবনী বাজেট মনিটরিং ও ব্যয় ট্র্যাকিং ডিজিটাল এপস্ ব্যবহৃত হচ্ছে।
এছাড়া শিশু প্রোফাইল এস্টিমেট ও ব্যয় মডেল টুলস ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুভিত্তিক পুষ্টি বাজেটের গ্যাপ নিরূপন করা যাচ্ছে যা সঠিক চাহিদামাফিক পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়নে সহায়তা করছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সহায়তায় কর্মএলাকার ৩০ হাজার ৭ শো’র অধিক অনুর্ধ্ব ৫ বছর বয়সী শিশুকে নিয়মিতভাবে গ্রোথ মনিটরিং এর আওতায় এনে অধিকতর সেবামূখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে উন্নত পুষ্টিসেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্ট কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় স্থানীয় উদ্যোক্তাগন পুষ্টি এবং ওয়াশ পণ্য ও সেবা দূর্গম এলাকাসমূহে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে উত্তম চর্চাগুলো বাস্তবায়ন ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে রাইটটুগ্রো কার্যক্রম আওতাধীন এলাকার ৮৭ শতাংশ পরিবার পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে সঠিক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করছে এবং ১৮৭টি গ্রামকে স্বাস্থ্যকর গ্রামে উন্নীত করা হয়েছে।
যার ফলে অনুর্ধ্ব ৫ বছর বয়সী শিশুদের খর্বকায়তা, কৃশকায়তা এবং ওজন স্বল্পতার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। রাইট টু গ্রো এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুর্ধ্ব ৫ শিশুদের খর্বকায়তার হার ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ উন্নীত হয়েছে। শিশুপুষ্টি ঘাটতি নিরসনের এই সাফল্য দেশে এবং দেশের বাইরে ব্যাপকভাবে প্রসংশিত হচ্ছে।
রাইটটুগ্রো বাংলাদেশ প্রোগ্রাম কনসোর্টিয়ামের এ সকল কার্যক্রম ও উত্তম চর্চাসমূহ দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার নিমিত্তে অনুর্ধ্ব ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সিভিল সোসাইটি প্ল্যাটফর্মটি গঠিত হয়েছে। সিএসএ-সান বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের সভাপতি সাইকা সিরাজকে সভাপতি; নারী মৈত্রী এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলিকে সহ-সভাপতি এবং মাইক্রোগ্রো এর নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ইমাম মাহমুদ রিয়াদকে সাধারণ সম্পাদক ও গুরুত্বপূর্ণ সিভিল সোসাইটি ব্যক্তিত্বদের সদস্য করে প্ল্যাটফর্মটির এড-হক নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়।
এই প্ল্যাটফর্মের সদস্য হিসেবে রয়েছেন সুজন সম্পাদক ও দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট এর সিনিয়র উপদেষ্টা ড. বদিউল আলম মজুমদার; এইচএলপি ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম; এক রঙা এক ঘুড়ি এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এস এম মাসুদুল ইসলাম নীল; বরগুনার জাগো নারী এর নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা হাসি; পটুয়াখালীর সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট এজেন্সী এর নির্বাহী পরিচালক কে এম এনায়েত হোসেন; বরগুনার তালতলী উপজেলার সমুদ্র সমাজ সংস্থার সভাপতি নজরুল ইসলাম; পটুয়াখালী সদর উপজেলার পায়রা সিএসও এর সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম; খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সোনালী স্বপ্ন সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সহ-সভাপতি আবু তারিক খান; সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সোনালী ভবিষ্যৎ ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম।
এছাড়াও প্ল্যাটফর্মের সদস্য হিসেবে রাইটটুগ্রো কান্ট্রি স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারপার্সন ও ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এ টি এম তারিকুল ইসলাম, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট এর কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, অ্যাকশান অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার এর ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর তপন কে চক্রবর্তী, সেভ দ্য চিলড্রেন এর পরিচালক (এফএসএল/শিশু দারিদ্র্য) তানিয়া শারমিন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর অপারেশন পরিচালক সাগর মারান্ডি রয়েছেন।
রাইটটুগ্রো বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম টিম লিডার মোহাম্মদ ইকবাল আজাদ সভাটি পরিচালনা করেন এবং ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এ অবস্থিত রাইটটুগ্রো প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট ইউনিট (পিএমইউ) থেকে রাইটটুগ্রো প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট গোলাম রহমানী কোরায়শী আয়োজনের সমন্বয় করেন। রাইট টু গ্রো পিএমইউ ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্মকে সহায়তা দিয়ে যাবে।









