চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো প্রথম আন্তর্জাতিক অল উইমেন ফিল্ম ফেস্টিভাল (CIAWFF) ২০২৫। দুই দিনের এই উৎসব (৪-৫ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত হয় আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ চট্টগ্রামে।
নারী নির্মাতাদের সৃজনশীলতা তুলে ধরার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানাতে আয়োজন করা হয় বিশেষ প্যালেস্টিনিয়ান ফিল্ম সেশন।
ফিল্ম ফর আস ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (AUW) ফিল্ম ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে দুই দিনে মোট ৪৩টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়, যার সবগুলোর নির্মাতা নারী। প্রতিযোগিতা বিভাগের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি নারী নির্মাতাদের ১২টি চলচ্চিত্র দর্শকদের গভীরভাবে আলোড়িত করে।
দ্বিতীয় দিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ফিলিস্তিনি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। ‘টুডে দে টুক মাই স ‘ ছবিটি দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। আয়োজকরা জানান, দর্শক-শ্রোতাদের অংশগ্রহণে স্পষ্ট হয়, ফিলিস্তিনের সংগ্রামের সাথে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের সংযোগ কতটা গভীর।
উৎসব কর্তৃপক্ষ বলছে, নারী নির্মাতাদের জন্য এটি শুধু একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং আন্তর্জাতিক সংহতির এক সৃজনশীল ভাষা। অংশগ্রহণকারীদের মতে, এ আয়োজন নতুন ধারার যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশের নারী সিনেমাকে।
সমাপনী দিনে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য রফিকুল আনোয়ার রাসেল, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজ্যুয়াল অ্যানথ্রোপলজিস্ট ড. দীপেশ খড়েল, এবং খ্যাতিমান জাপানি তথ্যচিত্র নির্মাতা আসামি সাইতো।
উৎসবের পরিচালক অধ্যাপক মাসউদুর রহমানের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের শুরু হয়। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পর ঘোষণা করা হয় পুরস্কার: সেরা তথ্যচিত্রের পুরস্কার পেয়েছেন গুলজার নায়ানির অ্যাগেইনস্ট দ্য রাবল, আর সেরা ফিকশন চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে মল্লিকা রায়ের ‘হোয়েন লাইট ফেডস অ্যাওয়ে’।
প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “চট্টগ্রামে সর্বমহিলা চলচ্চিত্র উৎসব করা সহজ নয়। এটি একটি কঠিন কাজ। আমি ধন্যবাদ জানাই সবাইকে, যারা এই উৎসব সম্ভব করেছে এবং যেসব নির্মাতা এতে অংশ নিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা থাকবে।”









