২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার (৯/১১) ২৫ বছর পূর্তিতে ওসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্যসংবলিত কয়েক ডজন গোপন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
নথিগুলোতে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার আগে বিন লাদেন ও আল-কায়েদা সম্পর্কে মার্কিন সরকারের হাতে থাকা গোয়েন্দা তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।
প্রকাশিত প্রেসিডেন্টের দৈনিক ব্রিফিংয়ের নথিগুলোতে বিন লাদেনের গতিবিধি, তার সহযোগীদের নেটওয়ার্ক ও অর্থের উৎস সম্পর্কে গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে সম্ভাব্য হামলার হুমকি নিয়েও কর্মকর্তাদের উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।
সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ নথি প্রকাশের ঘটনাকে ‘অসাধারণ স্বচ্ছতার একটি পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, এগুলো সিআইএর প্রকাশ করা প্রেসিডেন্টের দৈনিক ব্রিফিংয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় ডিক্লাসিফায়েড নথির সংগ্রহ।
প্রকাশিত নথির মধ্যে ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারির একটি ব্রিফিং রয়েছে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের জন্য তৈরি ওই নথির শিরোনাম ছিল ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জনে সন্ত্রাসীরা’। এতে বিন লাদেনসহ অন্যান্য উগ্রপন্থীর প্রসঙ্গ ছিল।
এ ছাড়া ২০০১ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের একটি নথিতে একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরিকল্পনা দুই বছর ধরে করা হয়েছিল। ওই পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনও হামলার লক্ষ্য ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
১৯৯৮ সালের এপ্রিলের একটি নথিতে আফগানিস্তানে তালেবানের কাছে ‘অতিথি’ হিসেবে থাকা বিন লাদেনকে হস্তান্তরে তাদের অনীহার কথা তুলে ধরা হয়। সোভিয়েত দখলদারিত্বের সময় বিন লাদেনের সহযোগিতার প্রতি কৃতজ্ঞতার কারণে তালেবান তার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ বা নিয়ন্ত্রণ করে তাকে অসন্তুষ্ট করতে চাইছিল না বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়।
এর পাঁচ মাস পরের একটি ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বিন লাদেনের পছন্দের লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের নিজ ভূখণ্ডে হামলা চালানো। একই নথিতে আল-কায়েদা বিস্ফোরকবোঝাই বিমান যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শহরে আছড়ে ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।
১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরের নথিতে সম্ভাব্য বিমান ছিনতাইয়ের বিষয়টিও উঠে আসে। এতে বলা হয়, একটি অজ্ঞাত নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে পরীক্ষামূলক নিরাপত্তা মহড়ার সময় ষড়যন্ত্রকারীরা নিরাপত্তা তল্লাশি এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। পাশাপাশি বিন লাদেনের নেটওয়ার্কের কয়েকজন সদস্য বিমান ছিনতাইয়ের প্রশিক্ষণ নিয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।
অন্য নথিগুলোতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহার করে তৈরি ‘ডার্টি বোমা’ ও প্রচলিত অস্ত্র সংগ্রহের জন্য বিন লাদেনের প্রচেষ্টার তথ্য রয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, ১৯৯৯ সালের জুনের মধ্যে তার সহযোগীরা বিস্ফোরকের শক্তি বাড়ানোর জন্য এ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চালিয়েছিল।
তবে প্রকাশিত অনেক নথিতেই গোয়েন্দা সূত্রের নাম ও পরিচয় শনাক্ত করা যায় এমন তথ্য কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। নথিগুলোতে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরিকল্পনা বা হামলাটি কীভাবে সংঘটিত হয়েছিল সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের আগের ধারণার বাইরে নতুন কোনো বড় তথ্য পাওয়া যায়নি।









