বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ভূগর্ভে হাইড্রলিক্স জগের নীচে চাপা পড়ে প্রতিষ্ঠানের শিফট ম্যানেজার ও চীনের নাগরিক মি.ওয়াং জিয়াং গো (৫৬)’র মৃত্যু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় কয়লা খনির ভূগর্ভস্থ ১৩০৯ নম্বর ফেইজে হাইড্রলিক্স জগের নীচে চাপা পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির মাইনিং ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান মোহাম্মদ জাফর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, দুর্ঘটনাকবলিত ওই চাইনিজ ম্যানকে আমরা উদ্ধারের পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে। হয়তো তিনি ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছেন।
এ দুর্ঘটনার কারণে কয়লা খনিতে কর্মরত সব চীনের নাগরিকসহ বিদেশিরা শোক পালন করায় স্থবির হয়ে পড়েছে খনির কার্যক্রম। বন্ধ রয়েছে কয়লা উত্তোলনের মেশিনপত্র।
অন্যদিকে, একই দিন ( ৮ জুলাই) বিকেলে কয়লা খনির পরিত্যক্ত ডিনামাইট বিস্ফোরণে এক শিশু আহত হয়েছে। চৌহাটির গ্রামের ১০ বছরের ওই শিশুটি কয়লা খনির ভেতর অবস্থিত পরিত্যক্ত ময়লার স্তূপ থেকে ৮ সেন্টিমিটার দীর্ঘ কয়লা বিস্ফোরণের ডিনামাইটটি নিয়ে যায়। বাড়িতে নিয়ে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি ও চার্জার দিয়ে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে গেলে তা বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে ওই শিশুর ডান হাতের আঙ্গুল উড়ে যায়। এ ঘটনা জানতে পেয়ে কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ আহত শিশুটিকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা শিশুটির হাতের আঙ্গুলগুলো কেটে ফেলেন।
এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির মাইনিং ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান মোহাম্মদ জাফর বলেন, ঘেরা দেওয়া সংরক্ষিত এলাকার ভূগর্ভস্থ বর্জ্য থেকে পরিত্যক্ত ডিনামাইট নিয়ে গিয়ে মোবাইলের ব্যাটারির সঙ্গে বৈদ্যুতিক সংযোগ করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। শিশুটি এখন ভালো আছে। আমরা টেক-কেয়ার করছি। কিন্তু কখনও আশা করিনি, এলাকাবাসী এভাবে এসব আমাদের অজান্তে নিয়ে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটাবে। বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। আল্লাহ্ বাঁচিয়েছে। আমরা ভূগর্ভে ৪০/৫০টি ডিনামাইট এক সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটালে এমন দু’একটি অবিস্ফোরিত থেকে যায়। যা পরর্বতীতে পাথরের সঙ্গে, বর্জ্যস্তূপে চলে আসে। আর সেখান থেকেই এলাকার বাচ্চাকাচ্চারা নিয়ে গেছে। যা অপ্রত্যাশিত।









