রাতে পর্দা উঠছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মৌসুমের। প্রস্তুতি শেষ গত আসরের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি, ফাইনালিস্ট আর্সেনাল, এবং ইউরোপীয় জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ, রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনার মতো ক্লাবগুলোর। এবারের আসরজুড়ে মানতে হবে উয়েফার বানানো কিছু নিয়ম। ২০২৬/২৭ মৌসুম ঘিরে নতুন নিয়মগুলো যুক্ত করেছে ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ম্যাচের মাঝে সময় নষ্টের ফলে সাধারণত ব্যাঘাত ঘটে খেলার ছন্দে। অনেক ক্ষেত্রে হয়ে থাকে রেফারির ভুল সিদ্ধান্তও। ফলে লাল কার্ড দেখতে হয় খেলোয়াড়দের। এসবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে নতুন নিয়ম জুড়ে দিচ্ছে উয়েফা। মঙ্গলবার রাত থেকেই প্রয়োগ করা হবে সেসব।
উয়েফা ঘোষণা করেছে, বদলি খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার জন্য ১০ সেকেন্ড সময় দেয়া হবে। নয়ত, বদলি হিসেবে মাঠে নামতে চাওয়া খেলোয়াড়কে এক মিনিট অপেক্ষা করতে হলে পরে খেলার পরবর্তী বিরতি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
থ্রো-ইন এবং গোল কিকের মাধ্যমে খেলা পুনরায় শুরুর ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের জন্য পাঁচ সেকেন্ডের সময়সীমা নির্ধারণের ক্ষমতা রেফারির থাকবে। কাউন্টডাউনের নিয়ম লঙ্ঘন করলে থ্রো-ইন করার অধিকার প্রতিপক্ষ দলকে দিয়ে দেয়া হবে। আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গোলকিক নিতে ব্যর্থ হলে প্রতিপক্ষ দলকে কর্নার কিক দেয়া হবে।
চিকিৎসার প্রয়োজন হলে খেলোয়াড়কে মাঠের বাইরে এক মিনিট অবস্থান করতে হবে। এরপর তিনি খেলায় ফিরতে পারবেন, তবে গোলরক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। এই নিয়মের কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে, যেমন কোন খেলোয়াড় যদি এমন কোন ফাউলের শিকার হন, যার ফলে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে হলুদ বা লাল কার্ড দেখানো হয়, তবে এই নিয়ম কার্যকর হবে না।
চলতি মৌসুম থেকে নতুন কিছু ক্ষেত্রে ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। যার মধ্যে ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। রেফারি যদি ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেন, তবে ভিএআর কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নিতে পারবেন। যদিও মূল অপরাধ বা ফাউলটি পুনরায় পর্যালোচনা করা যাবে না। ভুলবশত দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হলে ভিএআর কক্ষে থাকা কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। সেসময় রেফারিকে মাঠের পাশে থাকা মনিটরে ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনা করার পরামর্শ দিতে পারবেন।
ভিএআরের আওতাভুক্ত শেষ দুটি সিদ্ধান্ত হল, কর্নার বা ফ্রি কিক করা দলের ফাউল এবং গোলকিকের সময় সম্ভাব্য হ্যান্ডবল সংক্রান্ত ঘটনার বিষয়টি স্পষ্ট করা। অন্যটি হল, ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সঙ্গে কথা বলার সময় বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি যখন মুখ ঢেকে কথা বলেছিলেন, তখন খেলোয়াড়দের মুখ ঢাকার বিষয়টি একটি বড় বিতর্কের জন্ম দেয়। প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ উঠেছিল সেসময়।
পরে উয়েফার তদন্তে তিনি সমকামী-বিদ্বেষী আচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাকে ছয় ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। যার মধ্যে তিনটি ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়েছিল। সে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য একটি নিয়ম চালু করে, যেখানে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে তর্কের সময় মুখ ঢাকলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেয়া হবে।
উয়েফা জানিয়েছে, তারা ফিফার এ পদ্ধতি অনুসরণ করবে না। তবে কোন খেলোয়াড় যদি এমনভাবে মুখ ঢাকেন তাহলে সেটি অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ হিসেবে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখাতে পারেন। প্রেস্তিয়ান্নির ঘটনার মতোই, ম্যাচের পর তদন্তের প্রয়োজন হলে খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হতে পারে।
বিশ্বকাপ চলাকালীন ভুলবশত কর্নার কিক দেয়া হলে সেখানে ভিএআরের হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়েও ফিফা আগ্রহী ছিল। ফিফার ভিএআর প্রয়োগের পদ্ধতির চেয়ে কিছুটা ভিন্ন অবস্থান নিয়ে উয়েফা জানিয়েছে, কেবল অত্যন্ত স্পষ্ট কোন ঘটনার ক্ষেত্রেই কর্নার কিকের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে।
হলুদ কার্ডের সংখ্যায় উয়েফা পরিবর্তন এনেছে। আগে তিনটি হলুদ কার্ড জমা হলে খেলোয়াড়দের এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হতো এবং এরপর পাঁচটি ও সাতটি সতর্কবার্তা বা কার্ডের জন্য আরও নিষেধাজ্ঞার বিধান ছিল। এ মৌসুমে খেলোয়াড়দের কিছুটা ছাড় দেয়া হচ্ছে। এখন চারটি হলুদ কার্ডের পর নিষেধাজ্ঞা আসবে এবং এরপর ছয়, আট ও দশটি কার্ডের ক্ষেত্রে পরবর্তী নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি কার্যকর হবে। কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার সাথে সাথেই হলুদ কার্ডের হিসাব বাতিল হয়ে যাবে। অর্থাৎ, সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে লাল কার্ড পেলেই কেবল কোন খেলোয়াড় ফাইনাল ম্যাচ থেকে নিষিদ্ধ হবেন।
এক নজরে মঙ্গলবার রাতের ম্যাচ
রাত ১১:৪৫ মিনিট
ক্লাব ব্রুগে Vs অ্যাস্টন ভিলা
এইকে অ্যাথেন্স Vs এলএএসকে
রাত ১টা
পোর্তো Vs ম্যানচেস্টার সিটি
রিয়াল মাদ্রিদ Vs ইন্টার মিলান
বরুশিয়া ডর্টমুন্ড Vs ভিয়ারিয়াল
লিল Vs রিয়াল বেটিস









