বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া থাকলে শিক্ষা ও গবেষণার মানের উন্নয়ন হবে বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক নীতি আলোচনার বক্তারা। তারা বলেছেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী যদি একটি মিথষ্ক্রিয়ামূলক গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে তবে শিক্ষা ও গবেষণার সার্বিক মানের উন্নতি হবে।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মুক্তমঞ্চে ‘বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা সংস্কারে তারুণ্যের প্রত্যাশা’ শীর্ষক নীতি আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের আয়োজনে ‘আমিও জিততে চাই’ ক্যাম্পেইনের আওতায় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. এ টি এম আতিকুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। শিক্ষক রাজনীতির অপব্যবহার ও শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও গবেষণার মূল্যায়ন না থাকার ফলে ব্যহত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ। সেইসঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালো মানুষ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে পারছে না।
আলোচনায় দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ নিজার বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় বরাদ্দের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বেশি থাকে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য, যেখানে টেন্ডারবাজির সুযোগ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে হলে গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা গবেষণার মানসিকতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন না বলে তারা গবেষণায় অবদান রাখতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য মুশফিক উস সালেহীন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বিতার্কিক শায়লা রহমান ইমার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচক হিসেবে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া জাহান। তিনি বলেন, চলমান শিক্ষক রাজনীতির বাইরে এসে শিক্ষকরা কাজ করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর উন্নয়ন সম্ভব।
ইউএসএআইডির স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ (এসপিল) প্রকল্পের আওতায় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ‘আমিও জিততে চাই’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নাগরিক প্রত্যাশা তুলে ধরতে সারাদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলায় আলোচনা, নাট্য প্রদর্শনী, বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও ক্যাম্পেইনটির আওতায় amiojittechai.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রহণ করা হচ্ছে নাগরিকদের দাবি ও মতামত।
প্যানেল আলোচনা ছাড়াও এই ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভেশন অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন (জেইউডি) আয়োজনে শো-ডিবেট এবং ভিডিও বার্তা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাঙ্গনের বিভিন্ন ইস্যুর সমাধান বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের নানা ইস্যু নিয়ে পরিবেশন করা হয় একটি ইন্টারেক্টিভ থিয়েটার এবং এর ভিত্তিতে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জয়ী হন ১০ শিক্ষার্থী।
প্যানেল আলোচনা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি চিফ অব পার্টি (প্রোগ্রামস) আমিনুল এহসান। এসময় তিনি ক্যাম্পেইন সম্পর্কে বলেন, ‘আমিও জিততে চাই’ প্লাটফর্মের মাধ্যমে যখনই প্রয়োজন তখনই আপনার চাওয়া জানাতে পারবেন, আমরা সেটা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করবো। আমাদের অধিকারের প্রতি আমাদের সোচ্চার থাকতে হবে। এসময় অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন জেইউডিও সভাপতি তাপসী প্রাপ্তি।








