‘আজ নয়, কাল করব’ এমন অভ্যাস অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। কাজ সময়মতো শেষ না করে পরে করার এই প্রবণতাকে বলা হয় দীর্ঘসূত্রতা বা প্রোক্রাস্টিনেশন। এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আজ ৬ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘ফাইট প্রোক্রাস্টিনেশন ডে’ বা দীর্ঘসূত্রতা দূর করার দিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাজ ফেলে রাখাকে শুধু অলসতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অনেক ক্ষেত্রে এটি আবেগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। কাজ শুরু করতে অনীহা, মনোযোগের ঘাটতি কিংবা তাৎক্ষণিক আনন্দের প্রতি বেশি আকর্ষণ মানুষকে প্রয়োজনীয় কাজ পিছিয়ে দিতে উৎসাহিত করে।
শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের বড় বাধা
শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের মধ্যে দীর্ঘসূত্রতার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানো এবং কঠিন বা একঘেয়ে কাজের প্রতি অনাগ্রহ এ অভ্যাসকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
কাজ জমিয়ে রাখার ফলে শেষ মুহূর্তে চাপ বেড়ে যায়। এতে দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ এবং নিজের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে কমে যেতে পারে কাজের গতি ও উৎপাদনশীলতা।
যেভাবে দীর্ঘসূত্রতা কমাবেন
কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে কয়েকটি সহজ কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে।
দিনের কাজের তালিকা করুন: দিনের শুরুতে প্রয়োজনীয় কাজগুলোর একটি তালিকা তৈরি করুন এবং অগ্রাধিকার অনুযায়ী সেগুলো সাজিয়ে নিন।
দুই মিনিটের নিয়ম মেনে চলুন: কোনো কাজ দুই মিনিট বা তার কম সময়ে শেষ করা সম্ভব হলে সেটি পরে না রেখে সঙ্গে সঙ্গে করে ফেলুন।
পোমোডোরো কৌশল ব্যবহার করুন: ২৫ মিনিট মনোযোগ দিয়ে কাজ করার পর পাঁচ মিনিট বিরতি নিন। এতে দীর্ঘ সময় কাজ করার একঘেয়েমি কমে এবং মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।
ডিজিটাল বিভ্রান্তি কমান: গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফোন দূরে রাখুন।
বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করুন: বড় কোনো প্রকল্প বা কঠিন পড়াশোনাকে একসঙ্গে শেষ করার চেষ্টা না করে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে এগিয়ে যান।
দীর্ঘসূত্রতা দূর করার দিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস পরিবর্তনের অঙ্গীকার করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিনে এই অভ্যাস পুরোপুরি বদলে ফেলা সম্ভব না হলেও প্রতিদিনের ছোট ছোট পরিবর্তন ধীরে ধীরে কাজের গতি বাড়াতে এবং দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে পারে।









