যুক্তরাজ্যের একটি আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে দেওয়া বক্তৃতায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ থেকে ২২ বছর বয়সী সারাহ কটেকে খালাস দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) লন্ডনের একটি আদালতের জুরি তাকে অভিযোগ থেকে নির্দোষ ঘোষণা করেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর লন্ডনের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের (এসওএএস) বাইরে বক্তৃতা দেন কটে। এর দুই দিন আগে, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর তিনি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের প্রতি ‘শর্তহীন সংহতি’ প্রকাশ করেছিলেন।
যুক্তরাজ্যের সরকারি কৌঁসুলিরা আদালতে দাবি করেন, কটের বক্তব্য হামাসের প্রতি সমর্থনের পরোক্ষ প্রকাশ। তবে কটে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।
আদালতে কটে বলেন, ‘আমি হামাসকে সমর্থন করি না এবং কখনো করিনি। আমি প্রতিরোধের অধিকারের পক্ষে ছিলাম।’
৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় কটে বলেন, বেসামরিক মানুষ হত্যা সবসময়ই একটি ট্র্যাজেডি। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, ওই ঘটনা অপ্রত্যাশিত ছিল না। তবে কোনো ঘটনা বোধগম্য বলে মনে করা এবং সেটির সঙ্গে একমত হওয়া এক বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রায়ের পর আল জাজিরাকে কটে বলেন, তিনি ফিলিস্তিনিদের সংগ্রাম, ব্রিটেনের জায়নবাদপন্থী অবস্থানের প্রতি সমর্থন এবং বিবেকবান মানুষ হিসেবে তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ হিসেবে ওই বক্তৃতাকে ব্যবহার করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিজয় পুরো সংহতি আন্দোলনকে নতুন শক্তি দেবে। আমরা ফিলিস্তিনি জনগণ এবং স্বাধীনতার জন্য তাদের সংগ্রামে নিজেদের ভূমিকা রাখার অধিকারের পাশে আছি।’
কটের খালাসের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন সিএজিই ইন্টারন্যাশনালের পাবলিক অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রধান আনাস মুস্তাফা। তিনি বলেন, এই রায় দেখিয়েছে, দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অধিকারের পক্ষে বক্তব্য দেওয়াকে সাধারণ মানুষ অপরাধ হিসেবে দেখার বিষয়টি মেনে নেবে না।
যুক্তরাজ্যে হামাসকে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ২০২১ সালের শেষ দিকে সংগঠনটির রাজনৈতিক শাখাসহ পুরো হামাসকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেশটির সরকার। এর আগে ২০০১ সাল থেকেই হামাসের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেড নিষিদ্ধ ছিল। নিষিদ্ধ সংগঠনকে সমর্থনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
২০২৩ সালের বক্তৃতার ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি কটেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে হামাসকে সমর্থনের অভিযোগে দায়ের করা দ্বিতীয় একটি মামলাতেও তিনি খালাস পেয়েছিলেন।









