বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টুয়েন্টির ১২তম আসরে দুর্নীতির অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান শামীম, বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজো অফিসার জাকির হোসেন, বগুড়া জেলার বিসিবির সাবেক কাউন্সিলর ও বিসিবি অডিট কমিটির সাবেক সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম সানি। অভিযোগ ওঠা তিনজনকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিসিবি।
মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি এই তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনজনের বিরুদ্ধেই আইসিসির ২০২৪ সালের অ্যান্টি-করাপশন কোড ফর পার্টিসিপেন্টসের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।
সাময়িক বহিষ্কারের সঙ্গে চার্জ গঠনের নোটিশ পাওয়ার পর অভিযোগের জবাব দিতে তাদের ১৪ দিন সময় বেধে দেয়া হয়েছে। আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোড অনুযায়ী এরপর শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হবে।
২০২৫-২৬ বিপিএল চলাকালীন তখনকার বিসিবি পরিচালক মোখলেসুরের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিজ থেকেই দায়িত্ব ছাড়েন তিনি। পরে বিষয়টি তদন্তের জন্য বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকু) প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের কাছে পাঠানো হয়। গত জুনে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির নতুন কমিটি দায়িত্ব নিয়েছে। এরপরেও চলমান ছিল ফিক্সিং ইস্যুর তদন্ত। অ্যালেক্স মার্শালের করা রিপোর্টে নাম এসেছে সাবেক বিসিবি পরিচালক শামীমসহ আরও দুজনের।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, দুর্নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য যথাসময়ে প্রকাশ না করা, দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা দেয়া বা তদন্ত বিলম্বিত করা।
শামীমের বিরুদ্ধে চার ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৫-২৬ মেয়াদে বিসিবির বোর্ড পরিচালক এবং অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আইসিসি কোডের ২.১.১, ২.১.৪, ২.৪.৪ ও ২.৪.৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। যে ধারা অনুযায়ী, বিপিএলের ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্যকোন দিক অনুচিতভাবে প্রভাবিত করা বা তা করার চেষ্টা এবং কোন অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উৎসাহিত বা সহায়তা করার অভিযোগ এসেছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর কোন প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার তথ্য যথাসময়ে নির্ধারিত অ্যান্টি-করাপশন অফিসিয়ালকে না জানানো এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ বা তথ্য গোপন, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজো অফিসার জাকিরের বিরুদ্ধে ২.১.১, ২.১.৪ ও ২.৪.৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। যে ধারা অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে বিপিএলের ম্যাচের ফলাফল বা অন্যকোন দিক অনুচিতভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা, কোন অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে সহায়তা করা এবং যথাযথ কারণ ছাড়া পরিচালিত দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ বা অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগ রয়েছে।
বগুড়া জেলার বিসিবির সাবেক কাউন্সিলর ও বিসিবি অডিট কমিটির সাবেক সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে ২.৪.৪ ও ২.৪.৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। যে ধারা অনুযায়ী, দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর কোন প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার তথ্য যথাসময়ে অ্যান্টি-করাপশন অফিসিয়ালকে না জানানো এবং যথাযথ কারণ ছাড়া দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।









