একসময় জন্মদিন মানেই ছিল ঘরভর্তি মানুষ, হাতে বানানো খাবার, সাধারণ একটি কেক আর কাছের বন্ধুদের নিয়ে আনন্দ। এখন জন্মদিনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে থিম ডেকোরেশন, রেস্টুরেন্ট, ফটোশুট, ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও অসংখ্য শুভেচ্ছা। সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে জন্মদিন উদ্যাপনের ধরনও।
জন্মদিন সবার কাছেই বিশেষ একটি দিন। তবে ৯০-এর দশকে যারা শৈশব বা কৈশোর কাটিয়েছেন, তাঁদের কাছে জন্মদিনের স্মৃতিগুলো হয়তো আজকের প্রজন্মের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। তখন একটি ছোট আয়োজনও মনে হতো বড় উৎসবের মতো।
কেক আসার অপেক্ষাটাই ছিল আনন্দ
এখন জন্মদিনের কয়েক দিন আগেই পছন্দের কেক অর্ডার করা যায়। কেকের নকশা, স্বাদ, আকার সবকিছু নিজের পছন্দমতো বেছে নেওয়ার সুযোগ আছে।
৯০-এর দশকে বিষয়টি এত সহজ ছিল না। জন্মদিনে কেক আসবে এই খবরই ছিল আনন্দের। কেকের বাক্স খোলার সময় সবার চোখ থাকত তার দিকে। কেকের ওপর নাম লেখা হয়েছে কি না, মোমবাতি কয়টি এসব নিয়েও থাকত আলাদা উত্তেজনা। অনেক পরিবারে আবার বাড়িতেই তৈরি করা হতো নানা ধরনের খাবার। ফলে জন্মদিন মানেই শুধু কেক নয়, পরিবারের সবার ব্যস্ততাও।
কয়েকটি বেলুনেই সাজত পুরো ঘর
আজ জন্মদিনের সাজসজ্জার জন্য আলাদা ডেকোরেটর পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট থিম, ব্যাকড্রপ, ফুল, লাইট সবকিছুর আয়োজন করা হয়। ৯০-এর দশকে কয়েকটি রঙিন বেলুন, কাগজের সাজসজ্জা কিংবা ঘরের সামান্য পরিবর্তনেই জন্মদিনের পরিবেশ তৈরি হয়ে যেত। সাজসজ্জা যত সাধারণই হোক, জন্মদিনের মানুষটির কাছে সেটাই ছিল সবচেয়ে সুন্দর।
ছবি তোলার সুযোগ ছিল সীমিত
এখন জন্মদিনের প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করা যায়। কেক কাটার ছবি, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি, একা ছবি সবকিছুর অসংখ্য ছবি তোলা সম্ভব।
কিন্তু ৯০-এর দশকে ছবি তোলার বিষয়টি ছিল অনেক বেশি পরিকল্পিত। ক্যামেরা বের করা, সবাইকে এক জায়গায় দাঁড় করানো তারপর ছবি। একই মুহূর্তের ২০টি ছবি তোলার সুযোগ ছিল না। ফলে অ্যালবামে থাকা কয়েকটি ছবির মূল্যও ছিল অনেক বেশি।
রাত ১২টার শুভেচ্ছা ছিল না
বর্তমানে রাত ১২টা বাজতেই ফোনে একের পর এক বার্তা আসতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, স্টোরি, ট্যাগ সব মিলিয়ে জন্মদিনের শুরুটাই হয়ে যায় ডিজিটাল শুভেচ্ছায়। ৯০-এর দশকে এমন কিছু ছিল না। বন্ধুরা হয়তো সকালে দেখা করে শুভেচ্ছা জানাত, কেউ হাতে করে কার্ড নিয়ে আসত, কেউ ছোট্ট উপহার দিত।
একটি জন্মদিনের কার্ডও তখন অনেক বড় উপহার মনে হতে পারত।
উপহারেও ছিল সরলতা
তখন জন্মদিনের উপহার হিসেবে গল্পের বই, ডায়েরি, কলম, খেলনা, পুতুল কিংবা পছন্দের কোনো ছোট জিনিসই যথেষ্ট ছিল। উপহারের দাম কত, তার চেয়ে কে দিয়েছে সেটাই ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখন উপহারের তালিকায় যুক্ত হয়েছে গ্যাজেট, পারফিউম, ঘড়ি, হেডফোন, গিফট কার্ডসহ নানা ধরনের পণ্য।
বাড়ির আয়োজন থেকে রেস্টুরেন্টে
৯০-এর দশকে জন্মদিনের আয়োজন বেশির ভাগ সময়ই হতো বাড়িতে। মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা মিলে আয়োজন করতেন। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা আসত, খাওয়া-দাওয়া হতো, গল্প হতো।
এখন অনেকেই জন্মদিন পালন করেন রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে কিংবা পার্টি ভেন্যুতে। জায়গা বাছাইয়ের সময় খাবারের পাশাপাশি পরিবেশ, সাজসজ্জা ও ছবি তোলার সুযোগও বিবেচনায় আসে।
তখন স্মৃতি জমত অ্যালবামে, এখন ফোনে
৯০-এর দশকের জন্মদিনের স্মৃতি খুঁজতে পুরোনো অ্যালবাম খুলতে হতো। একটি ছবি হাতে নিয়ে পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ত। এখন স্মৃতি খুঁজতে গ্যালারি খুললেই পাওয়া যায় শত শত ছবি ও ভিডিও। জন্মদিনের মুহূর্ত শুধু নিজের কাছে নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গেও ভাগ করে নেওয়া যায়।
তবে প্রযুক্তি বদলালেও জন্মদিনের মূল আনন্দটা বদলায়নি। প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো, শুভেচ্ছা পাওয়া এবং নিজের বিশেষ দিনটি উদ্যাপন করার অনুভূতি এখনও একই রকম।
৯০-এর দশকে আয়োজন হয়তো ছোট ছিল, কিন্তু অপেক্ষাটা ছিল বড়। এখন আয়োজন বড়, মুহূর্তগুলোও অনেক বেশি ক্যামেরাবন্দী।









