যুক্তরাষ্ট্রের আসসন্ন নির্বাচনের আগে মুখোমুখি বিতর্ক শুরু করেছেন দেশটির দুই প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সিএনএন জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় আজ শুক্রবার সকালে এবং স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার আটলান্টায় এই দুই নেতার বিতর্ক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এই বিতর্ক দুই নেতার জন্যই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই বিতর্কের ফলাফল তাদের প্রাক নির্বাচনী জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের বিতর্ক দেশটির একটি রীতি। তবে এই রীতি অনুযায়ী বিতর্ক মঞ্চে উঠলেও হাত মেলাননি বাইডেন ও ট্রাম্প। এর আগে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্কেও কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের কারণে করমর্দন করেননি এই দুই নেতা।
বিতর্কের মঞ্চে বাইডেন ও ট্রাম্প বিতর্কের নিয়ম বর্ণনা করেন সঞ্চালক। বিতর্কের শুরুতে অর্থনীতি ইস্যু। এরপর একে একে গর্ভপাত অধিকার, কর, স্বাস্থ্য সেবা এবং আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার, ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে বিতর্কে জড়ান বাইডেন ও ট্রাম্প।
বয়স প্রশ্নে দুই নেতার উত্তর
বিতর্ক শুরু হবার ৮০ মিনিট পর ৮১ বছর বয়সী বাইডেন এবং ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্প তাদের বয়স এবং কাজ করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লে জাবাবে বাইডেন তার সফল নীতির তালিকা দিকে থাকেন এবং উল্লেখ করেন যে ট্রাম্পের বয়স তার থেকে মাত্র তিন বছর কম। এসিকে ট্রাম্প তার গলফ খেলা নিয়ে বড়াই করেন এবং বলেন যে, তিনি ২৫ বছর আগে যত সুস্থ ছিলেন, এখন তত ভালই আছেন।
পর্ণ তারকাকে ঘুষ প্রসঙ্গ
বিতর্ক শুরু হবার প্রায় ৪৫ মিনিট পর বাইডেন পর্ণ তারকাকে চুপ রাখার জন্য ঘুষ দেওয়া সংক্রান্ত মামলায় ট্রাম্পের দোষী সাব্যস্ত হবার বিষয় নিয়ে বলেন, এই মঞ্চে একজনই আছেন যাকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং আমি এই মুহূর্তে তার দিকে তাকিয়ে আছি।
ট্রাম্প তার নিজের আইনগত সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরানোর জন্য বাইডেনের ছেলে, হান্টারকে অপরাধী হিসেবে বর্ণনা করেন। হান্টার বাইডেন আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ
বিতর্কের এক পর্যায়ে পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এর ছিল প্রথম বিষয়। ট্রাম্প দাবী করেন তিনি প্রেসিডেন্ট থাকলে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন হতো না, আমাদের যদি একজন প্রকৃত প্রেসিডেন্ট থাকত, যাকে পুতিন সম্মান করে। তিনি কখনোই ইউক্রেনে হামলা চালাতেন না।
অভিবাসন প্রসঙ্গ
সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যে সব অভিবাসী বেআইনিভাবে দেশে আসছেন, তাদের বিলাস-বহুল হোটেলে রাখা হচ্ছে, এবং একই সময় সাবেক সৈন্যরা রাস্তায় বাস করছে। অভিবাসীরা পাগলা গারদ আর মানসিক রোগের প্রতিষ্ঠান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনি ভাবে আসছে।
ট্রাম্প আরও বলেন তার সময় দেশে ইতিহাসের সবচেয়ে নিরাপদ সীমান্ত ছিল।
অন্যান্য বার আউটডোরে দর্শকদের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের বিতর্ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও এবার টেলিভিশন স্টুডিওতে এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই দর্শকদের প্রতিক্রিয়া সরাসরি দেখার সুযোগ থাকছে না। বাইডেনের প্রচার দলের অনুরোধেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।









