বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকা থেকে ছিটকে গেছেন ফরাসি বিলাসপণ্য ব্যবসায়ী বার্নার্ড আরনল্ট। তার সম্পদের পরিমাণ কমে ১৪৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে যাওয়ায় ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সে তিনি শীর্ষ ১০-এর বাইরে চলে গেছেন।
এবার প্রথমবারের মতো তালিকার শীর্ষ ১০টি স্থানই দখল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। তাদের বেশিরভাগই প্রযুক্তি খাতের বিলিয়নিয়ার। ২০১২ সালে ব্লুমবার্গের এই সম্পদ সূচক চালুর পর এবারই প্রথম শীর্ষ ১০-এ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কোনো দেশের নাগরিক নেই।
তালিকার শীর্ষে রয়েছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। তার সম্পদের পরিমাণ ৯১৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছেন ল্যারি পেজ, জেফ বেজোস, সার্গেই ব্রিন ও মাইকেল ডেল।
চলতি বছরের শুরু থেকে আরনল্টের সম্পদের পতন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ৭৭ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ীর সম্পদ কমেছে ৬৫ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের ৫০০ শীর্ষ ধনীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
এর বড় কারণ তার বিলাসপণ্য কোম্পানি এলভিএমএইচের (LVMH) ব্যবসায় মন্দা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবও এতে পড়েছে। দুবাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটার বাজারে ডিওর, লুই ভিটন ও টিফানি অ্যান্ড কোংয়ের মতো ব্র্যান্ডের পণ্যের চাহিদা কমেছে। ডোম পেরিডন শ্যাম্পেন ও হেনেসি কগন্যাকের মতো উচ্চমূল্যের পণ্যের বিক্রিতেও এর প্রভাব পড়েছে।
চীনের বাজারেও নানা সমস্যার মুখে পড়েছে এলভিএমএইচ। দেশটির একটি চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ট্রেডমার্ক বিরোধের কারণে সেখানে কোম্পানিটির বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
শুক্রবার প্যারিসে লেনদেনের শুরুতে এলভিএমএইচের শেয়ারের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের দিন ফ্রান্সের সবচেয়ে বেশি বাজারমূল্যের কোম্পানি হিসেবে এলভিএমএইচকে কিছু সময়ের জন্য ছাড়িয়ে গিয়েছিল লরিয়াল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক চলতি বছরে প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর পণ্যের চাহিদা বাড়ায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ঊর্ধ্বগতি এই প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
২০১৭ সালের ২২ মার্চ থেকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকায় ছিলেন আরনল্ট। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে কিছু সময়ের জন্য তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিও হয়েছিলেন। উত্তর আমেরিকার বাইরে প্রথম ব্যক্তি এবং ভোক্তা পণ্য খাতের একমাত্র উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনীর আসনে উঠেছিলেন।
তখন অবশ্য বিলাসপণ্য শিল্পের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। চীনা ভোক্তাদের কেনাকাটা বাড়ছিল এবং মহামারির বিধিনিষেধের পর জমে থাকা চাহিদার বড় সুবিধা পেয়েছিল এলভিএমএইচের মতো কোম্পানি।
এলভিএমএইচের শেয়ার ২০২৩ সালের এপ্রিলে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছালেও পরে চীনসহ বিভিন্ন বাজারে পণ্যের চাহিদা কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কয়েকটি বাজারে অ্যালকোহলজাত পণ্যের ব্যবহার কমে যাওয়াও কোম্পানিটির ব্যবসায় প্রভাব ফেলেছে।
বর্তমানে আরনল্টের অবস্থান ওয়ালমার্টের দ্বিতীয় প্রজন্মের উত্তরাধিকারী জিম ওয়ালটনের ঠিক ওপরে।
এদিকে আরনল্টের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। দুই বিয়ে থেকে তার পাঁচ সন্তানই এলভিএমএইচের বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছেন। চলতি বছরের এপ্রিলে শেয়ারহোল্ডারদের সভায় প্রথমবারের মতো পাঁচ সন্তানই একসঙ্গে বক্তব্য দেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী হিসেবে তাকে কে উত্তরসূরি করবেন, সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান আরনল্ট।









