পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের বিষয়ে তদন্ত করে সিডনি থেকে নির্বাসন করার দাবি জানিয়ে পিটিশন দায়ের করেছে ‘স্বাধীন বাংলা পডকাস্ট’।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের বৃহত্তম পিটিশন প্ল্যাটফর্ম চেঞ্জ ডট ওআরজি-তে এই তথ্য জানা যায়। স্বাধীন বাংলা পডকাস্টের পক্ষ থেকে তৌহিদ হোসেন সাক্ষর করেন।
এই পিটিশনের পক্ষে এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৮২ জন সাক্ষর করেছেন।
‘কল টু অ্যাকশন: তদন্ত করুন এবং সিডনি থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী বেনজীর আহমেদকে নির্বাসন দিন’ শিরোনামে প্রকাশিত এই পিটিশনটি অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী, অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ, নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ ফোর্স, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং সংশ্লিষ্ট মিডিয়া আউটলেটগুলোর কাছে শেয়ার করা হয়।
পিটিশনে বলা হয়, আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী ব্যক্তিগন সিডনিতে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজির আহমেদের উপস্থিতির জন্য গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বেনজির আহমেদ বাংলাদেশে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জোরপূর্বক গুমসহ দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত।
বেনজির আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
দুর্নীতি
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত করছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিবেদনগুলো ইঙ্গিত করে, তিনি এবং তার পরিবারের সম্পত্তি এবং সম্পদের পরিমাণ তাদের আয়ের জ্ঞাত উৎসের চেয়ে অনেক বেশি। এসব দুর্নীতির অভিযোগে তার সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।
মানবাধিকার লঙ্ঘন
র্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালীন বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও জোরপূর্বক গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
২০১৮ সালে টেকনাফ সিটির পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে হত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত থাকার জন্য বেনজির আহমেদ এবং অন্যান্য র্যাব কর্মকর্তাদের উপর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
এসব গুরুতর অভিযোগ ও নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বেনজীর আহমেদ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে কোনো আপাত নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই বসবাস করছেন। আমরা বিশ্বাস করি, তার উপস্থিতি একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করে এবং ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের নীতিগুলিকে দুর্বল করে।
আমাদের অনুরোধ
আমরা অস্ট্রেলিয়ান সরকার এবং প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
বেনজির আহমেদের কার্যক্রম মনিটর করুন: নিশ্চিত করুন যে অস্ট্রেলিয়ায় তার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়, যাতে কোনো সম্ভাব্য ক্ষতি বা অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ করা যায়।
অভিযোগের তদন্ত করুন: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত পরিচালনা করুন।
আইনি পদক্ষেপ বিবেচনা করুন: তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার বা নির্বাসনসহ আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করুন।
আমরা বিশ্বাস করি যে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অস্ট্রেলিয়ান সরকারকে এই বিষয়ে দ্রুত এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।









