চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
  • আরও
    • কর্পোরেট নিউজ
    • কৃষি
    • তথ্যপ্রযুক্তি
    • মতামত
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

ব্যাংকিং খাতে সমন্বিত পুনরুদ্ধারের পথে হাঁটতে হবে: ড. মো. তৌহিদুল আলম খান

রাজু আলীম by রাজু আলীম
12:16 অপরাহ্ন 08, জুন 2026
in মতামত
A A
ড. মো. তৌহিদুল আলম খানের ছবি, ব্যাংকিং খাতে সমন্বিত পুনরুদ্ধার বিষয়ে আলোচনা. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

একসময় বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। শিল্পায়ন, রপ্তানি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টির পেছনে এই খাতের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গত দেড় দশকে ধারাবাহিক অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

ঋণ বিতরণে ঝুঁকি মূল্যায়নের বদলে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সুবিধা বড় হয়ে ওঠে। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। বহু প্রতিষ্ঠান নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে তা বছরের পর বছর পুনঃতফসিলের মাধ্যমে আটকে রাখে।

কাগজে-কলমে ব্যাংকগুলো মুনাফা দেখালেও ভেতরে ভেতরে মূলধন সংকট ও তারল্য সংকট বাড়তে থাকে। ব্যাংকিং খাত মূলত বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। একজন আমানতকারী তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয় ব্যাংকে জমা রাখেন এই নিশ্চয়তায় যে প্রয়োজনে তিনি তা ফেরত পাবেন। কিন্তু যখন মানুষ দেখতে পায় কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে নির্বিঘ্নে বিদেশে সম্পদ গড়ে তুলছে, তখন সেই আস্থায় ফাটল ধরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া এই আস্থাহীনতারই প্রতিফলন।

বাংলাদেশের অস্থির ব্যাংকিং খাতকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে ক’জন ব্যাংকার খোলামেলা ও বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. তৌহিদুল আলম খান বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছেন। তিনি ব্যাংকিং সংকটকে শুধুমাত্র খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট বা আর্থিক দুর্বলতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং তিনি বারবার বলেছেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট মূলত একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংকট, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক প্রভাব, নিয়ন্ত্রক দুর্বলতা, জবাবদিহির অভাব এবং নৈতিক অবক্ষয়। তাঁর ভাষায়, “ব্যাংক খাত ধীরে ধীরে তার প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র হারিয়েছে।” এই একটি বাক্যের মধ্যেই বাংলাদেশের আর্থিক খাতের দীর্ঘদিনের অসুস্থতার সারাংশ ফুটে ওঠে।

ড. তৌহিদুল আলম খান মনে করেন, গত দেড় দশকে ব্যাংকিং খাতে যে ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তা হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে নীতিগত দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রণহীন ঋণ বিতরণের কারণে সংকট জমতে জমতে আজ ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। তাঁর মতে, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক পরিচালনায় যোগ্যতা বা পেশাদারিত্বের চেয়ে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বড় হয়ে উঠেছিল। নতুন ব্যাংক অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদ গঠন কিংবা বড় ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ইচ্ছা কার্যকর হয়েছে। এর ফলে ঝুঁকি মূল্যায়নের সংস্কৃতি দুর্বল হয়েছে এবং ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

তিনি বিশেষভাবে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতিকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় বিপদ হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, একই করপোরেট গোষ্ঠী বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে পরে তা পুনঃতফসিলের মাধ্যমে বছরের পর বছর আটকে রেখেছে। এতে প্রকৃত উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, ব্যাংকের মূলধন দুর্বল হয়েছে এবং সাধারণ আমানতকারীদের আস্থা নষ্ট হয়েছে। ড. খান স্পষ্ট করে বলেছেন, পৃথক পৃথক ব্যাংকের বিচ্ছিন্ন আইনি লড়াই বড় করপোরেট খেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর হচ্ছে না। কারণ একটি গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংকে ছড়িয়ে থাকা ঋণের সুযোগ নিয়ে দায় এড়াতে সক্ষম হয়।

এই বাস্তবতায় তিনি “সমন্বিত পুনরুদ্ধার” বা যৌথ রিকভারি প্ল্যাটফর্মের ধারণা সামনে এনেছেন। ড. তৌহিদুল আলম খান বলেছেন, বড় খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে একাধিক ব্যাংককে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একটি “লিড ব্যাংক” পুরো প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেবে এবং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো সম্মিলিতভাবে ঋণগ্রহীতার সম্পদ, দায় ও নগদ প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করবে। তাঁর মতে, এতে গোপন সমঝোতার সুযোগ কমে যাবে এবং ঋণগ্রহীতার ওপর আইনি ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ বহুগুণ বেড়ে যাবে। তিনি এটিকে শুধু অর্থনৈতিক নয়, সুশাসনের একটি কাঠামো হিসেবেও দেখছেন।

ড. খান আরও বলেছেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সিন্ডিকেশন ঋণকে শুধু বড় প্রকল্পে অর্থায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তিনি মনে করেন, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারেও সিন্ডিকেশনকে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি করপোরেট গ্রুপের সব দায় ও সম্পদকে “মাইক্রো-ম্যাপিং” করতে পারলে অর্থ পাচার, সম্পদ স্থানান্তর এবং গোপন লেনদেনের সুযোগ কমে যাবে। তিনি বলেছেন, “একলা চলো” নীতি ত্যাগ করে “সমন্বিত পুনরুদ্ধারের” পথে হাঁটতে হবে।

অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বা এএমসি গঠনের বিষয়েও ড. তৌহিদুল আলম খান জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, বড় ও জটিল খেলাপি ঋণগুলো একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের অধীনে নিয়ে এসে পেশাদার ব্যবস্থাপনায় পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেছেন, প্রচলিত আদালতব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ঋণ মামলা নিষ্পত্তি হতে বহু বছর লেগে যায়। এতে ব্যাংকের ব্যালান্সশিট আরও দুর্বল হয়। তাই “ব্যাড ব্যাংক” ধরনের একটি কাঠামো ছাড়া বড় খেলাপি ঋণ দ্রুত কমানো কঠিন হবে।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সংকট যে আস্থার সংকট, সেটিও ড. খান বারবার উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা মূলত বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। একজন আমানতকারী তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয় ব্যাংকে রাখেন এই বিশ্বাসে যে প্রয়োজনে তিনি অর্থ ফেরত পাবেন। কিন্তু যখন মানুষ দেখতে পায় প্রভাবশালী গোষ্ঠী হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বছরের পর বছর তা পরিশোধ করছে না, তখন সেই বিশ্বাসে ফাটল ধরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে একটি গুজবও মুহূর্তে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনর্গঠন এখন শুধু আর্থিক বিষয় নয়; এটি জনমনস্তত্ত্বের বিষয়ও।

ড. তৌহিদুল আলম খান রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা রাজনৈতিক চাপের বাইরে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ডিজিটাল তদারকি, ফরেনসিক অডিট, রিয়েল টাইম ডেটা মনিটরিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি বিশ্লেষণের ওপর জোর দিয়েছেন।

বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনের বিষয়েও ড. খানের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, অনেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র আর্থিক পুনর্গঠনের অভাবে বন্ধ হয়ে আছে। ফলে ব্যাংকের ঋণ আটকে আছে এবং শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। তিনি সিন্ডিকেশনভিত্তিক পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, উৎপাদন বন্ধ রেখে কোনো ঋণ পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। বরং শিল্পকে সচল রাখলে অর্থনীতিও উপকৃত হবে এবং ঋণ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও বাড়বে।

ব্যাংকারদের ভূমিকা নিয়েও ড. তৌহিদুল আলম খান গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ব্যাংকাররা শুধু ঋণ বিতরণকারী নন; তাঁরা আমানতকারীদের অর্থের রক্ষক। কিন্তু বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও করপোরেট চাপের কারণে অনেক ব্যাংকার স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। ফলে পেশাদার ঝুঁকি মূল্যায়নের সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর মতে, দক্ষ ব্যাংকারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা নিশ্চিত না করলে কোনো প্রযুক্তিগত সংস্কারই কার্যকর হবে না।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের এই দীর্ঘ সংকটের মধ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। অন্তর্বর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কিছু সংস্কার উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। দুর্বল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, প্রশাসক নিয়োগ, বড় ঋণ পুনর্মূল্যায়ন এবং ফরেনসিক অডিটের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে স্বীকার করা হয় যে প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।

বর্তমানে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই সংস্কার কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। নামে-বেনামে ঋণ গ্রহণ, ভুয়া জামানত ব্যবহার, অর্থ পাচার এবং ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রুত ঋণ মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের আলোচনা চলছে।

বর্তমান সরকার ব্যাংক একীভূতকরণ বা মার্জার নীতিও সামনে এনেছে। দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিমভাবে টিকিয়ে রাখা দুর্বল ব্যাংকগুলো অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সরকার মনে করছে। ফলে কিছু সংকটাপন্ন ব্যাংককে তুলনামূলক শক্তিশালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার আলোচনা চলছে। যদিও এই নীতি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ মনে করেন, এতে সাময়িক স্থিতিশীলতা আসতে পারে। আবার অনেকে আশঙ্কা করছেন, দুর্বল ব্যাংকের দায় শেষ পর্যন্ত সুস্থ ব্যাংকের ওপর চাপিয়ে দিলে পুরো খাতেই নতুন চাপ তৈরি হবে।

সরকার এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও করছে। ডিজিটাল তদারকি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং রিয়েল টাইম ডেটা মনিটরিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ফরেনসিক অডিট ইউনিট সম্প্রসারণ এবং সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স কাঠামো শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা চলছে, যাতে কোনো ব্যাংক সংকটে পড়লেও সাধারণ আমানতকারীরা একটি ন্যূনতম নিরাপত্তা পান।

তবে ড. তৌহিদুল আলম খান মনে করেন, কেবল প্রযুক্তি বা নতুন আইন দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁর মতে, “প্রযুক্তি সুশাসনের বিকল্প নয়।” যদি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দুর্বল থাকে, তাহলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও নতুন ধরনের জালিয়াতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই তিনি নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপরও জোর দিয়েছেন।

বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এখন অনেকাংশে নির্ভর করছে ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠনের ওপর। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, রপ্তানি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা—সবকিছুই এই খাতের স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ব্যাংকিং সংকট এখন আর শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়; এটি রাজনৈতিক ও নৈতিক সংকটও। ড. মো. তৌহিদুল আলম খানের বক্তব্যের মূল শক্তি এখানেই যে তিনি সমস্যাকে আড়াল করার চেষ্টা করেননি। বরং তিনি দেখিয়েছেন, একটি দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামোকেই অস্থিতিশীল করে তোলে।

বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। নির্বাচিত সরকার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন নীতি গ্রহণ করছে, আর্থিক খাত পুনর্গঠনের আলোচনা চলছে। ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য শুধু নতুন আইন নয়, প্রয়োজন নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং জবাবদিহির বাস্তব প্রয়োগ।

দেশের মানুষ এখন ব্যাংকিং খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় আছে—যেখানে ব্যাংক হবে আমানতকারীর নিরাপত্তার জায়গা, রাজনৈতিক প্রভাবের কেন্দ্র নয়; যেখানে ঋণ যাবে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে, প্রভাবশালীদের গোপন সুবিধায় নয়; যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হবে কার্যকর নিয়ন্ত্রক, কাগুজে পর্যবেক্ষক নয়। ড. মো. তৌহিদুল আলম খানের বক্তব্য সেই প্রয়োজনীয় আলোচনাকেই নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে এই সংস্কারের সফল বাস্তবায়নের ওপর।

Tags: অর্থনৈতিকক্ষুদ্র উদ্যোক্তাব্যাংকিং
Previous Post

আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম

Next Post

আবারও বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন জেনিফার উইংগেট, পাত্র কে?

Next Post
স্মার্ট ও স্টাইলিশ তরুণী, সমুদ্র সৈকত ও সূর্যপ্রকাশের পটভূমিতে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

আবারও বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন জেনিফার উইংগেট, পাত্র কে?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে আরও ২ দিন সময় দেওয়ার ঘোষণা দেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে আরও ২ দিন সময় দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সর্বশেষ

জেমসের নতুন গানের পরিবেশনা, মঞ্চে গিটার ও মাইক্রোফোন হাতে শিল্পী. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ঘর ছেড়ে আজিজ বোর্ডিং, সংগীতে আজও অপ্রতিরোধ্য জেমস

অক্টোবর 2, 2026

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ কবে, কার বিপক্ষে, কোথায়

অক্টোবর 2, 2026
প্রাকৃতিক পরিবেশে মিথিলা সুন্দরভাবে ছবি তুলেছেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

মিথিলার ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন

অক্টোবর 2, 2026

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কাজ চলছে: মাহদী আমিন

অক্টোবর 1, 2026

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু কবে, জানাল আইসিসি

অক্টোবর 1, 2026
iscreenads
চ্যানেল আই অনলাইন লোগো, বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদ পোর্টাল. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
info@channelionline.com
online@channeli.tv (Online)
news@channeli.tv (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT