কানাডার রয়্যাল সোসাইটি অব কানাডার (আরএসসি) ২০২৬ সালের নতুন সদস্যদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত গবেষক ড. রঞ্জন দত্ত।
কমিউনিটিভিত্তিক দুর্যোগ গবেষণা, আদিবাসী জ্ঞান এবং জলবায়ু অভিযোজন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কলেজ অব নিউ স্কলার্স, আর্টিস্টস অ্যান্ড সায়েন্টিস্টসের সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
৯ সেপ্টেম্বর রয়্যাল সোসাইটি অব কানাডা ২০২৬ সালের নতুন ফেলো ও সদস্যদের নাম ঘোষণা করে। কানাডার শিক্ষা, বিজ্ঞান, শিল্প ও জনজীবনে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তাদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
ড. রঞ্জন দত্ত কানাডার মাউন্ট রয়্যাল ইউনিভার্সিটির মানবিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। ২০২০ সাল থেকে তিনি কমিউনিটি ডিজাস্টার রিসার্চের কানাডা রিসার্চ চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ১৭ বছর ধরে আদিবাসী, স্থানীয় ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে কমিউনিটিভিত্তিক এবং ভূমিভিত্তিক গবেষণা করে আসছেন তিনি।
গবেষণার জন্য ৩৯টি প্রকল্পে ১৫ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের বেশি প্রতিযোগিতামূলক তহবিল সংগ্রহ ও নেতৃত্ব দিয়েছেন রঞ্জন দত্ত। কানাডার পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল, আর্কটিক অঞ্চল, দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন গবেষণা অংশীদারের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।
ড. রঞ্জন দত্তের গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য হলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, ভূমিভিত্তিক জ্ঞান, সংস্কৃতি ও শাসনব্যবস্থাকে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করা। তার মতে, কোনো এলাকার পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় শুধু বৈজ্ঞানিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়। স্থানীয় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উত্তর সাসকাচেওয়ানের উডল্যান্ড ক্রি ফার্স্ট নেশন সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। ২০২৫ সালে ওই অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের সময় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমিভিত্তিক জ্ঞানকে দুর্যোগ মোকাবিলা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করার গুরুত্ব সামনে আসে।
ড. রঞ্জন দত্তের গবেষণায় উপনিবেশমুক্তকরণ বা ডিকলোনাইজেশনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার মতে, এটি কোনো একটি নীতি বা প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার বিষয় নয়। ভূমি, পানি, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষেত্রে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, দায়িত্ব এবং কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
বাংলাদেশেও তার গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রয়েছে। জলবায়ু অভিযোজন, আদিবাসী জ্ঞান এবং ভূমিভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। তার লেখা ‘Decolonizing Climate Adaptation: Indigenous Land-Based Perspectives in Bangladesh’ বইটি এ বিষয়েই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকর্ম হিসেবে বিবেচিত।
রয়্যাল সোসাইটি অব কানাডার সদস্যপদের জন্য ড. রঞ্জন দত্ত মনোনয়ন দেন তার গবেষণা সহযোগী এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরির সহযোগী অধ্যাপক ড. মিরল ব্যালার্ড। আগামী নভেম্বরে অটোয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সদস্যদের অভিষেক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।
মাউন্ট রয়্যাল ইউনিভার্সিটির প্রভোস্ট ও একাডেমিক ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. চ্যাড লন্ডন অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তার এই নির্বাচন কমিউনিটিকেন্দ্রিক গবেষণায় তার অবদান এবং গবেষণার প্রভাবের স্বীকৃতি।
অন্যদিকে ড. রঞ্জন দত্ত এই স্বীকৃতিকে নিজের কাজের শেষ হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, তিনি যেসব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করেন, তারা যদি নিজেদের অধিকার, স্বায়ত্তশাসন ও শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সেটিই হবে তার কাজের সবচেয়ে বড় অর্জন।









