জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন সাভারের আশুলিয়ায় গুলি করে হত্যার পর ছয়জনের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে ১৫ সেপ্টেম্বর।
আজ (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউসনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এই মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে আগামীকাল সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধৈর্যের আবেদন করেন। এরপর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আগামীকাল এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
এই মামলায় গ্রেফতার আটা আসামীর মধ্যে সাত জন তাদের নির্দোষ দাবি করেন তবে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজ সাক্ষী হতে চান। ট্রাইব্যুনাল তার দোষ স্বীকারের বিষয়টি গ্রহণ করেন। তবে রাজ সাক্ষী হওয়ার আবেদনের বিষয়ে কোন আদেশ দেননি।
গত ২ জুলাই এই মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়ে ২১ আগস্ট অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
এই মামলার ১৬ আসামী মধ্যে গ্রেফতার ৮ আসামী ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন। এরা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।
আশুলিয়া লাশ পোড়ানোর নৃশংস ঘটনায় করা মামলার পর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয় তরুণকে গুলি করে হত্যার পর, লাশগুলোকে পুলিশ ভ্যানে রেখে আগুন লাগিয়ে দেন পুলিশ সদস্যরা। যখন এসব মরদেহে আগুন দেওয়া হচ্ছিল তখন একজন জীবিত থাকা অবস্থায় তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়।’ নৃশংস এ ঘটনায় গত ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।









