পেনসিলভানিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডা. নাহরীন আহমেদ ইউক্রেনে এক সপ্তাহের বেশি সময় কাটিয়ে পেনসিলভানিয়ায় ফিরেছেন। তিনি ইউক্রেনে ধ্বংস হওয়া এলাকায় ক্লিনিকও স্থাপন করেছেন।
শুক্রবার ৪ আগস্ট সিবিসি নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়, রাশিয়ান আগ্রাসনের পর ইউক্রেনে এটি ছিল ডা. নাহরীন আহমেদের ষষ্ঠ তম সফর।
ডা. নাহরীন আহমেদ সিলেট মেডিকেল কলেজের শহীদ অধ্যাপক ডা. শামসুদ্দিন আহমেদের নাতনি এবং মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদের মেয়ে।
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পালমোনারি এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক নাহরীন আহমেদ। তিনি মেডগ্লোবাল নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পরিচালক। সংস্থাটি দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চলে সেবা কার্যক্রম পরিচালিত করে। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা শুরু হলে মেডগ্লোবাল সেখানেও কার্যক্রম শুরু করে।
ইউক্রেন সফর প্রসঙ্গে ডা. নাহরীন আহমেদ বলেন, ‘যুদ্ধ বিধ্বস্ত লোকদের দেখে আমি সর্বদা বিস্মিত হই। তাদের সহযোগিতা করতে সব সময় এগিয়ে যাই।’ ইউক্রেনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আপনি যত পূর্ব দিকে যেতে থাকবেন ততই রাস্তাগুলো খারাপ দেখতে পাবেন।
রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার দু’সপ্তাহ পর তার একটি দল ইউক্রেনের স্থানীয় সার্জারি ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। এছাড়াও সর্বশেষ এই সফরে তিনি পূর্ব ইউক্রেনে কয়েকটি মোবাইল ক্লিনিক স্থাপন করেন। ডা. নাহরীন বলেন, এগুলো এমন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্য অবকাঠামো প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, বারবার বিভিন্ন ভারী অস্ত্র কিংবা কামানের আওয়াজ শোনা আপনার জন্য বিরক্তিকর। এছাড়াও সেখানে মানুষজন নিয়মিত বিপদের মধ্যে অবস্থান করছেন। তারা উপলব্ধি করছেন, যেকোন সময় যেকোন ধরনের বিপদ তাদের অপেক্ষা করছে।
ইউক্রেনের ভয়াবহতা নিয়ে ডা. নাহরীন বলেন, যে রাতে ক্রামতোর্স্ক শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আটজন নিহত হয়, সেই রাতে তিনি এই শহর থেকে মাত্র দেড় মাইল দূরে অবস্থান করছিলেন। তার দল নিয়ে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন তিনি।
ডা. নাহরীন আহমেদ পুনরায় সপ্তম বারের মতো ইউক্রেন সফরের প্রস্ততি নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘শীঘ্রই সপ্তম সফরে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি।’
ড. নাহরীন আহমেদ অবসরের বেশিরভাগ সময় বাংলাদেশ, ইয়েমেন, ইথিওপিয়া, কলম্বিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যের অনগ্রসর এলাকায় চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত থাকেন। আমেরিকার বেশ কিছু পিছিয়ে পড়া জনপদে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং রোগীর যত্ন বিতরণ ব্যবস্থার উন্নতিতে ড. নাহরীন আহমেদ কাজ করে আসছেন। ড. নাহরীন আহমেদের নেতৃত্ব, নিজেকে মানবতার কাজে উৎসর্গ করা এবং সাহস দেখে আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা গর্বিত। আমেরিকায় জন্ম বাংলাদেশি প্রজন্ম ড. নাহরীন আহমেদকে আদর্শ মনে করে অনুপ্রাণিত বোধ করে।









