অ্যাডিলেড থেকে: গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি তখনও ঝরছে। বৃষ্টির মাঝেই চলছে সুপার শপার। বৃষ্টি পুরোপুরি থামার আগেই পুনরায় খেলার শুরুর তোড়জোড় অবাক করার মতো। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে বৃষ্টি থামার সঙ্গে সঙ্গেই সব সেটেলড হয়ে গেলো। আম্পায়ারদের মাঠ পরিদর্শনেরও প্রয়োজন পড়ল না। বিশ্বকাপ আয়োজকদের তাড়া দেখে মনে হলো, লগ্ন যেনো পেরিয়ে যাবে!
খেলা শুরুর কয়েক মিনিট আগেও ড্রেসিংরুমের সামনে দাঁড়িয়ে আম্পায়ারদের বার বার ঘাস থেকে পানি তুলে দেখাচ্ছিলেন সাকিব আল হাসান। দেখে মনে হচ্ছিল খেলা শুরু হতে ঢের বাকি। তবে মাত্র ১৫ মিনিটের নোটিশে খেলা শুরু হয় অ্যাডিলেড ওভালে। এমন চিত্র আগে দেখার অভিজ্ঞতা হয়নি বাংলাদেশি সাংবাদিকদেরও।
যদিও এটি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আপত্তি তোলেননি সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ অধিনায়ককে এক ভারতীয় সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন যে আম্পায়ারদের মানাতে চেষ্টা করেছিলেন কিনা। সাকিব অবাকই হয়েছেন বলেছেন সেই ক্ষমতা কি আমাদের আছে। তাহলে কী কথা হচ্ছিল তাদের সঙ্গে? সাকিব বলেন, দুই দলের অধিনায়ককে ডেকে কখন খেলা কত ওভারে খেলা কার্টেল ওভার ম্যাচের সব বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন।
আরও পরে খেলার শুরু হলে সুবিধা হতো বাংলাদেশেরই। ৭ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৬ রান তুলে সব নিজেদের পক্ষেই নিয়ে এসেছিল দল। কিন্তু ভেজা মাঠে ভুল পথে দৌড়ে লিটনের রান আউটে হওয়া ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। শেষে নুরুল হাসান সোহান আশা জাগালেও সেটি ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। শেষ বলে ছয় মেরে ম্যাচ সুপার ওভারে নিতে না পারায় আফসোসে পুড়ছেন এই ক্রিকেটার।
‘ক্লোজ একটা ম্যাচ ছিল। জিততে পারলে ভালো হতো। কাছাকাছি চলে যেতাম। লিটন ভালো শুরু করে দিয়েছিল, আমরা শেষ ওভারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে, হয়ে যাবে কিন্তু একটা বাউন্ডারি কম ছিল। খেলাটায় যখন ছন্দ ছিল, আমরা একটা ভালো অবস্থানে ছিলাম। যখন একটা বিরতি আসবে, তখন কিন্তু ছন্দ পতন হবে।
‘আমার কাছে মনে হয় বিরতি ম্যাটার করে। দুর্ভাগ্যবশত আজকে আমরা জিততে পারিনি। টি-টুয়েন্টিতে যখন ৯-১০ করে ওভারে লাগবে তখনতো আপনাকে ঝুঁকি নিতেই হবে। এই ঝুঁকিটাই মূলত নেয়ার চেষ্টা করেছি। সবাই ক্যালকুলেটিভ ভাবেই চিন্তা করে। কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি সেরকম থাকে না। এরকম না যে, ক্যালকুলেট করে গেলেই আপনার হয়ে যাবে। এক্সিকিউট করাটাও গুরুত্বপূর্ণ।আমার কাছেও মনে হয় যে একটা ভালো সুযোগ (শেষ বলে টাই করার) ছিল।’
বাংলাদেশ যখন ব্যাটিং করছিল ভারতীয় এক ফিল্ডার ফেক থ্রো করেছিলেন। বল হাতে না নিয়েই থ্রো করার ভঙ্গি করেন। আম্পায়ার বিষয়টি খেয়াল না করায় পেনাল্টি হিসেবে বাড়তি ৫ রান পায়নি বাংলাদেশ। এটি নিয়ে ম্যাচ শেষে আক্ষেপ করেছেন সোহান।









