বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া আশ্বাস দিয়েছেন যে ছেলে ও মেয়ে উভয়েরই এশিয়া কাপের ট্রফি মুম্বাইয়ে বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে ‘এসে পৌঁছাবে’। গত সপ্তাহে ভারতীয় নারী দল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি মহসিন নাকভির হাত থেকে বিজয়ী পদক এবং এশিয়া কাপের ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। মহসিন নাকভি একই সাথে পিসিবি প্রধান এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গত সেপ্টেম্বরে দুবাইতে ছেলেদের এশিয়া কাপ ফাইনালের পরেও ঠিক একই রকম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল।
চলমান এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট প্রতিযোগিতাতেও একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কারণ টুর্নামেন্টটি এসিসির তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং ভারতের ছেলে ও মেয়ে উভয় দলেরই স্বর্ণপদকের ম্যাচে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
মুম্বাইয়ে বিসিসিআই-এর ৯৫তম বার্ষিক সাধারণ সভার পর শুক্রবার সাইকিয়া বলেন, ‘এশিয়া কাপের ট্রফিগুলো… আমরা আশা করি একদিন চলে আসবে। আমি আপনাকে কোনো সময়সীমা দেব না, তবে আমি আপনাকে নিশ্চিত করতে পারি যে উভয় ট্রফিই মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আমাদের বিসিসিআই প্রধান কার্যালয়ে এসে পৌঁছাবে।’
নাকভির এসিসি সভাপতি হিসেবে মেয়াদ শেষের ঠিক প্রাক্কালেই সাইকিয়ার এই মন্তব্যগুলো সামনে এল। আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিলে তাঁর মেয়াদ শেষ হবে। দুবাইতে রোববার নারী এশিয়া কাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭২ রানের জয়ের পর ভারতীয় দল সেরা ফিল্ডারের জন্য নিজেদের একটি নিজস্ব পদক বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে ফিল্ডিং কোচ মুনীশ বালি পদকটি তুলে দেন। সাইকিয়া এবং বিসিসিআই সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা ফাইনালে দুটি ডাইভিং ক্যাচ নেয়া নন্দিনী শর্মাকে ফিল্ডিং পদক প্রদান করেন।
পিটিআই-কে সাইকিয়া বলেন, ‘আমাদের অবস্থান আগেই এসিসিকে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় দল ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না। পরিস্থিতি এবং দেশের বিরাজমান অনুভূতির কথা বিবেচনা করে, বিসিসিআই মনে করেছিল যে নির্ধারিত উপায়ে দলের পক্ষে ট্রফি গ্রহণ করা সমীচীন হবে না।’
‘এটি ছিল একটি দৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, যা আমাদের বজায় রাখা অবস্থানেরই প্রতিফলন এবং এটি কোনোভাবেই খেলোয়াড়, টুর্নামেন্ট বা খেলার প্রতি নির্দেশিত ছিল না।’
২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনার পর থেকে ভারতের খেলোয়াড়েরা পাকিস্তান দল এবং তাদের প্রতিনিধিদের সাথে হাত মেলানো থেকে বিরত রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে, এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন পুরুষ দলটিকেও পোস্ট-ম্যাচ প্রেজেন্টেশনে দেখা যায়নি। পরবর্তীতে বিলম্বিত সেই প্রেজেন্টেশনে কেবল রানার্স-আপ দলকেই তাদের পদক দেওয়া হয়েছিল।









