আবু বকর হানিপ। একজন বিজনেস আইকন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন অত্যন্ত সফল উদ্যোক্তা। কর্মমুখী উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার বাংলাদেশীকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে সম্মানজনক পদে চাকরি লাভে যোগ্য এবং উপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলেছেন।
তার চমৎকার দিকনিদের্শনা তথা গাইডেন্স লাভ করে সুদূর মার্কিন মুল্লুকে কত বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীর জীবন বদলে গেছে তার হিসাব নেই।নিজের ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষালাভ করে বাংলাদেশি এই মেধাবী উচ্চশিক্ষিত মানুষটি অন্যদেরকেও কর্মমুখী আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি তথা আইটি খাতে প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন। বহু বছর আগে গড়ে তুলেছিলেন তেমনি এক নির্ভরযোগ্য সফল প্রতিষ্ঠান পিপল ইনটেক। পরবর্তী সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াতে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মতো সাড়া জাগানো একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি এই বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি চ্যানেল আইয়ের সাথে সাক্ষাকারে অংশগ্রহণ করেন আবু বকর হানিপ। সেই সফল, মেধাবী, দেশপ্রেমিক মানুষ আবু বকর হানিপ এই অনুষ্ঠানে উপস্থাপিকা সানজিদা পারভিনের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তাঁর জীবনের সফলতার গল্প তুলে ধরার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন ধারার বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা এবং এর ক্রমবিকাশ, বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা ইত্যাদি তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁর জীবনের নানা ভাবনা দেশের দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে তাঁর পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে অন্তরঙ্গভাবে কথা বলেছেন।
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধুমাত্র পড়াশোনা করে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের জন্য নয়, উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি সরাসরি বিভিন্ন কাজে পারদর্শী ও দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে বড় বড় প্রতিষ্ঠানে সরাসরি উচ্চতর কিংবা মধ্যবর্তী পর্যায়ের পদে চাকরিতে যোগদানের জন্য উপযুক্ত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই সফল গুণী মানুষটি দীর্ঘদিন ধরে সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও, নিজেকে কর্মজীবনে সাফল্যের শিখরে নিয়ে গেলেও নিজের প্রিয় জন্মভূমি, প্রিয় স্বদেশ বাংলাদেশের জন্য গভীরভাবে ভাবেন। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে পথপ্রদর্শক হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করছেন। মার্কিন দেশে যাওয়া হাজার হাজার বাংলাদেশী তরুণ যুবককে সঠিক গাইডেন্স প্রদানের মাধ্যমে তাদের জীবনের গতিপথ আমূল পাল্টে দেওয়ার এক অনন্য কারিগর হিসেবে দেশপ্রেমের চেতনায় কাজ করে যাচ্ছেন। এখন আপন কারিশমায় তিনি একজন অনন্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। যাকে অনুসরণ করে বর্তমানে নিজের জীবনটাকে উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাবার কথা ভাবছেন অনেক বাংলাদেশি মানুষ।
চ্যানেল আই বিজনেস আইকন অনুষ্ঠানের উপস্থাপকের এক প্রশ্নের জবাবে একজন অনন্য দেশপ্রেমিক সফল বিজনেস আইকন আবু বকর হানিপ তাঁর শিক্ষাজীবন, কর্মজীবনের সূচনা এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার কর্মক্ষেত্রের পরিধি বিস্তার সম্পর্কে বলেন, ‘বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোটে আমার জন্ম। শিক্ষাজীবন কেটেছে চট্টগ্রাম শহরে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে ইলেকট্রনিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে (ট্রিপল ই) স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার পর আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাই। সেখানে গিয়ে মাস্টার্স করি সিএসই বিষয়ে। তারপর চাকরি খোঁজা শুরু করি। কিন্তু তেমন সুবিধাজনক এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে আবার কিছু বিষয়ে ডিগ্রি নিই। এভাবেই ভাল চাকরির জন্য নিজেকে যোগ্য করে তুলি। এরপর আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশ অনেক শীর্ষস্থানীয় আইটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যেমন, আইবিএম, ওরাকল আইআরএস, আমেরিকান ডিফেন্স প্রভৃতির মত সুপ্রতিষ্ঠিত নামি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরি করেছি। এভাবে আমি নিজেকে ক্রমেই কর্মজীবনে বেশ ভালভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হই। তখন আমি আমার বাসায় বাংলাদেশ থেকে ভাল চাকরির প্রত্যাশা নিয়ে যাওয়া বন্ধু-বান্ধবদের অনেককে থাকার জায়গা দিই। তাদেরকে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করি কর্মমুখী উচ্চতর শিক্ষা লাভে। এভাবেই অল্পসময়ের মধ্যে অনেকেই নিজেদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ ভালো বেতনে উচ্চতর পদে চাকরি লাভের জন্য যোগ্য করে তুলতে সমর্থ হয়। পরবর্তীতে আমি নিজে একটি বাড়ি কেনার পর এর বেজমেন্টে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া আরও বেশি সংখ্যক ছাত্র তরুণ যুবকদের থাকার ব্যবস্থা করি। তাদেরকে কর্মমুখী শিক্ষা লাভের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে উন্নতর জীবনের পথ দেখাই। এরপর আমি কর্মমুখী শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সম্মানজনক পদে তুলনামূলক ভাল বেতনে চাকরি লাভের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পিপলস ইনটেক প্রতিষ্ঠানটি চালু করি। যার কর্মপরিধি দিনে দিনে অনেক বিস্তৃত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বাংলাদেশেও পিপলস ইনটেক এর একটি শাখা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বর্তমানে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ধারার একটি উচ্চ শিক্ষা লাভের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন এবং এর কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি আমার ঐকান্তিক চেষ্টায় নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া আট হাজারের বেশি মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা লাভের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনেক ভালো বেতনে উচ্চতর পদে চাকরি লাভের ব্যবস্থা করেছি। আমার ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি এক্ষেত্রে অব্যাহতভাবে অবদান রেখে চলেছে। তুলনামূলক স্বল্প খরচে এখান থেকে উচ্চতর ডিগ্রিলাভের জন্য রয়েছে বেশ ভালো সুযোগ। যারা মেধাবী শিক্ষার্থী, তারা বৃত্তি লাভের মাধ্যমে কম খরচে পড়াশোনা করতে পারছেন। আমেরিকান অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশিরভাগেই একাডেমিক দিকটাকে বেশ জোর দেওয়া হয়ে থাকে। ফলে সেখান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের পর একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠানের এন্ট্রি লেভেলে চাকরি নিতে হয়। অথচ আমাদের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে একজন শিক্ষার্থীকে আমরা একাডেমিকভাবে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষাদানের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মধ্যম পর্যায় কিংবা উচ্চতর পর্যায়ের পদে চাকরির জন্য বাস্তবজ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ ও অভিজ্ঞ করে তুলছি। ফলে এখান থেকে পাশ করে বেরিয়েই তারা ভাল বেতনে চাকরি পেয়ে যাচ্ছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত জীবনযাপনের জন্য উপযুক্ত হয়ে উঠছে। একসময় বাংলাদেশ থেকে মার্কিন মুল্লুকে যাওয়া অধিকাংশ তরুণ যুবক লেখাপড়া না করে অডজব করে কিংবা ট্যাক্সি চালিয়ে জীবন ধারণ করত। অথচ বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া বাংলাদেশী তরুণ যুবকদের অধিকাংশই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইটি সংশ্লিষ্ট চাকরিতে বেশ ভাল অবস্থানে রয়েছে। ফলে তাদের জীবনযাপন বদলে গিয়ে উন্নত পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে খুব দ্রুতই। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে শুরুতে তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের সুযোগ থাকলেও ক্রমেই এখানে ব্যবসা প্রশাসনসহ অন্যান্য বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা লাভের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থাৎ এ আই বিষয়সহ ডাটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, এন্টারপ্রেণারশীপসহ নতুন নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমান সময়ের উপযোগী নানা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিলাভের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সরাসরি চাকরিতে যোগ দেওয়ার মত করে গড়ে তোলা হচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অচিরেই লস অ্যাঞ্জেলস, নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া শহরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শাখা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতেও আমেরিকান একটি উচ্চ শিক্ষা লাভের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির শাখা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশেও কী ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে? প্রশ্ন করা হলে আবু বকর হানিপ বলেন, আমার তেমন পরিকল্পনা রয়েছে। আমি মনেপ্রাণে বাংলাদেশে এর কার্যক্রম শুরু করতে চাইছি। বাংলাদেশে বর্তমানে ১৬৫ টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বেশ উন্নতমানের -এ কথা নিদ্বির্ধায় বলতে পারি। কিন্তু আজকাল এখানে সবাই উচ্চশিক্ষা লাভ করে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগছে। ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি পড়ে তারা ফরেন সার্ভিস ক্যাডারে, পুলিশ, কাস্টমস ক্যাডারে চলে যাচ্ছে। সরকার এত এত টাকা সাবসিডি দিয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ক্ষেত্রে সহায়তা দিলেও তারা লাইন বদলে ভিন্ন পেশায় চলে যাচ্ছে। ফলে তাদের কাছ থেকে যা দেশ পেত, তা পাচ্ছে না। যাতে উচ্চশিক্ষা লাভের পর ভিন্ন ট্যাকে না যায় সে পথ সৃষ্টির জন্য তাদের লেখা-পড়াটাকে কর্মউপযোগী করে তোলা দরকার। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টির যে কারিকুলাম ফরম্যাট তা যদি এদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গ্রহণ করে তাহলে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির ক্ষেত্রে দারুন এক বিপ্লব ঘটে যাবে বলে মনে করি। আমি নিজে মনেপ্রাণে এটাই চাই।
আবু বকর হানিপ প্রতিষ্ঠিত পিপলস ইনটেক দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশেও একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শাখার মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এখান থেকে বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অনেক মেধাবী তরুণ-তরুনী আইটি খাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ, দক্ষ, যোগ্য পেশাদার জনশক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। যারা দেশে তো বটেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে খুব দ্রুত এবং সহজেই চাকরিতে নিয়োগ পেয়ে যাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি তার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, পিপলস ইনটেক বর্তমান বিশ্বব্যাপী একটি সফল দক্ষজনশক্তি সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর অসংখ্য আইটি প্রফেশনালস বেরিয়ে আসছে এবং তারা স্ব স্ব ক্ষেত্রে অনন্য সাফল্যের প্রমাণ দিচ্ছে। অনেকেই নিজ নিজ দেশে ফিরে গিয়ে তাদের জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখছে। আমার পিপলস ইনটেক প্রতিষ্ঠানটির একটি শাখা ঢাকার গ্রীণ রোড পান্থপথে চালু করেছি। ২০১৪ সাল থেকে এটি কাজ করে যাচ্ছে। এখান থেকে এ পর্যন্ত অসংখ্য তরুণ-তরুনী নিজেদের দক্ষ অভিজ্ঞ করার মাধ্যমে ভাল চাকরি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে গেছে। আমরা এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাবার ব্যাপারে আই টুয়েন্টি দিয়ে থাকি শিক্ষার্থীদের। যারা যথার্থই মেধাবী, দক্ষ এবং যোগ্য কেবলমাত্র তাদেরই আমরা আই টুয়েন্টি প্রদান করি। তাদের অধিকাংশই সেখানে যাবার ভিসা পায়। আর এসব প্রসেসিং করার জন্য ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে একটি বিশেষ সেল রয়েছে। যারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তার মনোভাব যাচাই করে বিভিন্ন ব্যাপারে সঠিকতা নিশ্চিত হয়ে আই টুয়েন্টি প্রদান করে। অযোগ্য কাউকে আমরা আই টুয়েন্টি প্রদানের জন্য নির্বাচন করিনা কোনো সময়ে। যে কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানের দেওয়া আই টুয়েন্টি নিয়ে কেউ মার্কিন ভিসা লাভে ব্যর্থ হয়না সাধারণত।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে ভিসানীতি প্রয়োগ করেছে তাতে করে কী এদেশ থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য সেখানে যাওয়াটা বাধাপ্রাপ্ত হবে বলে মনে করছেন, জানতে চাইলে বাংলাদেশি এই সফল শিক্ষা ও কারিগরী প্রযুক্তি বিকাশে কৃতিমান উদ্যোক্তা বলেন, ‘নাহ, আমি তো তেমন কিছু দেখছি না। বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কোনোভাবেই কমেনি। বরং বাড়ছে দিনে দিনে। মার্কিন সরকার ভিসা প্রদানের ব্যাপারে একটি নীতি অনুসরণ করে থাকে। যেখানে আবেদনকারীর মেধা, যোগ্যতা, শিক্ষা ইত্যাদি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই সব যোগ্যতা যার রয়েছে সে ভিসা পাবে। এ ক্ষেত্রে তাকে আটকানোর কোন বিশেষ ইনটেনশন থাকেনা তাদের।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আবু বকর হানিপ নিজেকে একজন অনন্য অসাধারণ অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের যে কোন উৎসবে, অনুষ্ঠানে, পার্বনে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় কিংবা ছোট-বড় ইভেন্ট আয়োজনে সব সময়ে সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। এক্ষেত্রে তাঁর উদার এবং মহতী মনোভাব সবাইকে আলোড়িত করে। যার মাধ্যমে তাঁর বিশেষ পরিচিতি গড়ে উঠেছে। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখুন, দূর প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, সোহার্দ্যপূর্ণ, আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন উৎসব, সাংস্কৃতিক, ঐতিহ্য রক্ষায় আয়োজনগুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বাংলাদেশের ঐতিহ্য, গৌরবময় বিষয়সমূহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার মাধ্যমে নিজেদের মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমি সব সময় কাজ করতে চাই। এসব উদ্যোগের সঙ্গে থাকতে চাই। কিন্তু আমি একা একা এক্ষেত্রে কতটাই বা করতে পারব। যে কারণে প্রবাসে যারা এ ধরনের উৎসব, অনুষ্ঠান আয়োজন করেন আমি তাদের পাশে সবসময় ভালভাবে থাকার চেষ্টা করি। সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে ঐ আয়োজন, উদ্যোগগুলোর অংশীদার হয়ে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করি- এটাও কম প্রাপ্তি নয় আমার জন্য।
বিদেশের মাটিতে দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও নিজের দেশ বাংলাদেশের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কথা তিনি কোনোভাবেই অস্বীকার করেন না। বরং দেশের জন্য ভাল কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন। নাড়ির টানে প্রতিবছর স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে দেশে বেড়াতে আসেন। দেশে নিজের আত্মীয়-পরিজন, প্রতিবেশিদের বিপদ-আপদে, সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সবার জন্য কিছু করার ব্যাপারে তাঁর মধ্যে এক ধরনের তাড়না কাজ করে বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে আবু বকর হানিপ বলেন, আমার তিন কন্যা। তারা সবাই আমেরিকান নাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠেছে। আমি তাদেরকে শেকড়টা চেনাতে সচেষ্ট থাকি। বাংলাদেশি সামাজিক-ধর্মীয় মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক চেতনা ও ঐতিহ্য, অতীত গৌরবময় নানা ইতিহাস, বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা প্রভৃতি সম্পর্কে গভীরভাবে ধারণা দিতে প্রতিবছর তাদের সবাইকে নিয়ে দেশে বেড়াতে আসি। আমি আমার গ্রামের বাড়িতে থাকি। সবকিছু দেখাই, চেনাতে চেষ্টা করি। যাতে করে তাদের মনে এদেশের প্রতি এক ধরনের টান বা আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। যাতে তারা আগামিতে আমার মতো এ দেশকে নিয়ে, এদেশের মানুষকে নিয়ে ভাববার তাগিদ অনুভব করে।
তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আমার ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিকে একটি মডেল ইউনিভার্সিটি হিসেবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চাই। যে তিনটি লক্ষ্য নিয়ে আমার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে একই সঙ্গে -ডিগ্রি অর্জন, কাজের দক্ষতা অর্জন এবং এখান থেকে পাশ করার সাথে সাথে চাকরিতে মধ্য কিংবা শীর্ষ পর্যায়ের পদে যোগদান। তার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষ, অভিজ্ঞ, কর্মক্ষম জনশক্তি গড়ে তুলতে চাই। এর মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়ে যেমন শিক্ষার্থী বেশ ভালোভাবে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠা লাভের সুযোগ পাবে এবং তাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সক্ষম শক্তিশালী সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে উঠবে দেশে দেশে।









