প্রায় ২৫০ বছরের মধ্যে রেকর্ড উষ্ণতম জুলাইয়ের সাক্ষী থাকল পৃথিবী। এছাড়াও আগামী বছর ২০২৪ সাল নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো। চলতি বছরের চেয়ে আগামী বছর আরও গরম বাড়বে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
বুধবার (১৬ আগস্ট) হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার গোদার্ড ইনস্টিটিউট অফ স্পেস স্টাডিজ এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা আগামী দিনগুলো নিয়ে বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকার জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যে সময় থেকে তথ্য আছে, সেইসময় থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের সর্বকালের তৃতীয় উষ্ণতম বছর হল ২০২৩ সাল। যা বিশ্বের উষ্ণতম বছরেও পরিণত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সর্বকালের উষ্ণতম বছরের প্রথম পাঁচের মধ্যে যে ২০২৩ সাল থাকবে, সেটার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ বলে জানিয়েছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০২৩ সালের থেকেও বেশি গরম পড়বে ২০২৪ সালে।
প্রায় ২৫০ বছরে উষ্ণতম জুলাই
গোদার্ড ইনস্টিটিউট অফ স্পেস স্টাডিজের তরফে জানানো হয়, ১৮৮০ সালে শেষবার এতটা গরম পড়েছিল জুলাইয়ে। আর ১৯৫১ সাল থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে জুলাইয়ের গড় তাপমাত্রা বিবেচনা করলে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে গরম বেশি ছিল শতকরা ১.১৮ ডিগ্রি।
রেকর্ড গড়তে পারে ২০২৩ সাল, আরও বাড়তে পারে ২০২৪ সালে
সংবাদসংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার আমেরিকার ‘ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’র প্রধান বিজ্ঞানী সারা কাপনিক জানান, এখন পর্যন্ত বিশ্বের উষ্ণতম বছরের তালিকায় ২০২৩ সাল তৃতীয় স্থানে আছে। এটা কার্যত নিশ্চিত যে বিশ্বের সর্বকালের (যতদিনের তথ্য আছে) উষ্ণতম বছরের তালিকার প্রথম পাঁচে থাকবে ২০২৩ সাল। সেই সম্ভাবনা হল ৯৯ শতাংশ। আর ২০২৩ সালই বছরের উষ্ণতম বছর হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ আছে বলে জানান ‘ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’র প্রধান বিজ্ঞানী।
আবার গোদার্ড ইনস্টিটিউট অফ স্পেস স্টাডিজের প্রধান বিজ্ঞানী আবার আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে ২০২৩ সালটা স্রেফ ট্রেলার ছিল। ‘দুষ্টু ছেলে’ এল নিনোর প্রভাবে ২০২৪ সালে আরও গরম পড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘এল নিনোর সবথেকে মারাত্মক প্রভাব মূলত পড়বে ২০২৪ সালে। তাই আমাদের আশঙ্কা, শুধু ২০২৩ সালে যে খুব গরম থাকবে এবং গরমের নিরিখে রেকর্ড তৈরি হতে পারে, সেটা নয়; ২০২৪ সাল আরও উষ্ণ হবে।’
সেই পরিস্থিতিতে নাসার প্রশাসক বিল নেলসন বলেন, ‘এটা স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে পৃথিবীতে গরম বাড়ছে। আমাদের সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছে প্রকৃতি। আর সেই বার্তা হল, আমাদের এখনই পদক্ষেপ করতে হবে। নাহলে জলবায়ু তথা আমাদের গ্রহকে বাঁচানোর কাজটা খুব দেরি হয়ে যাবে।’









