রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত নিয়ে আলাদা আলাদা বক্তব্য দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স। তবে সংশ্লিষ্ট সকলেই আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীদের নিরাপদে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তৎপর ছিলেন বলে কর্মকর্তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনশেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব জি এম সালেহ উদ্দিন বলেন, আগুনের সূত্রপাত হয়েছে হাসপাতালে তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে। ফায়ার সার্ভিসের ১৭ টি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান বলেন, আগুন সাধারণত নিচের দিক থেকে উপরের দিকে যায়। এই বিষয় নিয়ে আমরা তদন্ত করছি এক্সপার্টরা কাজ করছেন। তদন্ত শেষ হলে আগুনের সূত্রপাতের সঠিক স্থান সম্পর্কে জানা যাবে।
এর আগে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানিয়েছিলেন নিচ তলায় ওষুধের স্টোরেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জি এম সালেহ উদ্দিন বলেন, বিকেল পাঁচটা পঞ্চাশ মিনিটে ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১৭ টি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ডাক্তার,শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নার্স, পুলিশ, র্যাব সবাই তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। যখন অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় তখন প্রায় এগারশ’ রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আধা ঘন্টা সময়ের মধ্যেই সকল রোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে বাইরে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় শিশু ওয়ার্ডের ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকলেও কেউ হতাহত হয়নি দাবি করে তিনি আরো বলেন, আই সি ইউ তে ১০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এই ঘটনায় হাসপাতাল এ কোন রকম হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এখন এমার্জেন্সি সার্ভিস চালু আছে। রাতের মধ্যে সীমিত আকারে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা যাবে। রোগীদেরকে প্রাথমিকভাবে সকল সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আশেপাশের সকল এম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক কাজ করেছে।
সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কমিটিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এই মুহূর্তে বিদেশে অবস্থান করলেও তার মুখ্য সচিবের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সকল খবরাখবর তিনি নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, “কিছুদিন আগেই আমাদের ফায়ার সার্ভিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে কিভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালাবে তার প্রশিক্ষণ দিয়েছিলো। সেটি আজ কাজে লেগেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সকলের প্রতি তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছি যেকোনো সহযোগিতা প্রদানের জন্য।”
এরপর অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত নিয়ে দুই ধরনের মন্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের ডিজি বলেন, “আগুন লেগেছে খবর পেয়ে খুব দ্রুতই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ শুরু করেছে। আগুন সব সময় নিচের দিক থেকে উপরের দিকে যায়। তারপরেও বিষয়টা তদন্তের আওতায় রয়েছে আমাদের এক্সপার্টরা তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
তবে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “হাসপাতালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খুব ভাল ছিল। অনেকগুলি একজিট গেট ছিল যার ফলে রোগীরা খুব দ্রুতই বের হয়ে যেতে পেরেছেন। তারপরেও তদন্ত শেষে হাসপাতালে যদি কোন ত্রুটি থেকে থাকে, সে বিষয়টি চিহ্নিত করা হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থার সুপারিশ করা হবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা আবুল কালাম আজাদ বলেন, রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রথমে আমরা সরকারি হাসপাতালগুলো কে প্রাধান্য দিয়েছি। যে বিভাগের রোগী তাদেরকে সেসব বিশেষায়িত হাসপাতাল গুলোতে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রথমে বলেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে নির্দেশনার অভাবে অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভাররা বেশিরভাগ রোগীকেই ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেছেন। তারপরও আমরা সেখানে চাপ হলে রোগীদেরকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আজ রাতের মধ্যেই আংশিক নয় বেশিরভাগ অংশই সেবা চালু করা সম্ভব দাবি করে তিনি বলেন, শুধুমাত্র অগ্নিকাণ্ডের স্থানটুকু ছাড়া প্রায় পুরো হাসপাতাল এই সেবা চালু করা সম্ভব হবে। তবে রোগীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী যে সব হাসপাতলে গেছেন সেখানেই সেবা নিতে পারবেন। অথবা তারা চাইলে তাদেরকে ফেরত নিয়ে আসা হবে।
ছবি: আরেফিন তানজীব









