ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দখল হয়ে যাওয়া ১৪ বিঘা জমি ফেরতসহ সাত দফা দাবিতে সমাবেশ ও মশাল মিছিল করেছে ‘ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সংগঠনসমূহের জাতীয় সমন্বয় কমিটি।
শনিবার বিকেলে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশ থেকে বক্তারা ধর্ম অবমাননার দায়ে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তার, ড. জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টার বিচার, চাকমা রাণীকে লাঞ্ছনাকারীর বিচার, পাবনার পুরোহিত হত্যার বিচার, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে হামলা বন্ধ, সংখ্যালঘুদের হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন বন্ধ এবং ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ১৪ বিঘা জমি ফেরতের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এড. রানা দাশগুপ্ত বলেন, “জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে নারী লাঞ্ছনা করা হচ্ছে, এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যারাই জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে অপরাধ করবে তাদের এই অপব্যবহার রুখে দিতে হবে।”
“সাংবাদিক আনিস আলমগীর হিন্দুদের দেবী সরস্বতীকে যৌনতার প্রতীক বলেছেন। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই”
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার রায় বলেন, “ঢাকেশ্বরী মন্দির একটি ঐতিহাসিক মন্দির। সারাদেশ থেকে মানুষ এখানে পূজা করতে আসে। কিন্তু ভূমিদস্যুরা মন্দিরে ঢোকার বাম পাশে দখল করে নির্মানকাজ শুরু করে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই দখলকাজ বন্ধ করতে হবে।”
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, “একটি রাষ্ট্র কতোটুকু অসাম্প্রদায়িক, কতোটুকু মানবিক তা সংখ্যালঘুদের সাথে রাষ্ট্র কেমন আচরণ করছে তার ওপর নির্ভর করে। আমরা অবিলম্বে আমাদের এই সাত দফার বাস্তবায়ন চাই।”

বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয় বলেন, “সারাদেশেই সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। রামুতে ২৬ টি বৌদ্ধ বিহার জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল। প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়ায় এটা সাময়িকভাবে আর হচ্ছে না। তবে বারবার তা করার চেষ্টা চলছে।”
সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ, মাইনোরিটি রাইটস ফোরাম, বাংলাদেশ মাইনোরিটিজ সংগ্রাম পরিষদ এর নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে সন্ধ্যায় শাহবাগ থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত মশাল মিছিলের পর এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।









