হতাশার সফরে শান্তির পরশ। অ্যাশেজ সিরিজে ৪-০তে বিধ্বস্ত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া সফরে অবশেষে জয়ের দেখা পেয়েছে ইংল্যান্ড। ওপেনার জেসন রয়ের এক মহাকাব্যিক ইনিংসে ভর করে জয়খরা কাটিয়েছে ইংলিশরা। অজিদের ৫ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল ইয়ন মরগানের দল।
অ্যারন ফিঞ্চের শতরানে ভর করে শুরুতে ৮ উইকেটে ৩০৪ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। ১৮০ রানের ইনিংস দিয়ে ফিঞ্চের জবাব দেন রয়। আর তাতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।
বড় টার্গেটের শুরুটা রেকর্ড দিয়েই করে ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে কম ওভারে প্রথম দলীয় অর্ধশত রান তোলেন দুই ওপেনার রয় ও জনি বেয়ারস্ট্রো। আর ইংলিশদের হয়ে অজিদের বিপক্ষে সবচেয়ে কম বলে অর্ধশত রান করেন রয়, ৩২ বলে। এরআগে রেকর্ডটি ছিল তার ও অ্যালেক্স হেলসের, দুজনেরই ছিল ৩৪ বলে।
দলীয় ৫৩ রানে আউট হন বেয়ারস্টো (১৪)। সাত রান পরই ফেরেন ‘ব্যাড বয়’ বেন স্টোকসের সঙ্গী অ্যালেক্স হেলস (৪)। পরে ২২১ রানের জুটি গড়ে অজিদের ম্যাচ থেকে একরকম ছুঁড়ে ফেলেন রয় ও জো রুট। সাউথ আফ্রিকা সিরিজের পর দল থেকে বাদ পড়েছিলেন রয়। বিগ ব্যাশে ছয় মাচে ছিল ১০ গড়ে রান। তবে দলে ফিরেই রয় বুঝিয়েছেন ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে তিনি গুরুত্বপূর্ণই।
শুরু থেকে দারুণ খেলতে থাকা রয় ব্যক্তিগত ৯১ রানে অ্যাডাম জাম্পার বলে প্রাণ ফিরে পেয়ে আর পেছনে তাকাননি। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রেকর্ড সেঞ্চুরি করে শেষ পর্যন্ত আউট হন ১৮০ রানে। এই মাঠে ইংলিশদের তো অবশ্যই, যেকোনো ব্যাটসম্যানেরই সর্বোচ্চ ইনিংস এটি। এর আগে ২০০১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৭৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মার্ক ওয়াহ। রয়ের ১৫১ বলের ইনিংসে ছিল ১৬টি চার ও পাঁচটি ছক্কার মার।
রয় সাপোর্ট দেয়ার পাশাপাশি মহাগুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন অ্যাশেজে ফ্লপ টেস্ট অধিনায়ক রুটও। অপরাজিত ৯১ রানের ইনিংস খেলে দল জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। মাঝে অল্প ব্যবধানে অবশ্য সাজঘরমুখী হন মরগান (১) ও জশ বাটলার (৪)।
স্বাগতিকদের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স। অপর উইকেটটি মার্ক স্টোয়নিসের।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে ফিঞ্চ ১০৭, মার্কাস স্টোয়নিস ৬০ ও মিচেল মার্শ ৫০ রান করে তিনশ পেরোনো সংগ এনে দেন অজিদের।









