বহু প্রতীক্ষার পর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়া মগবাজার মৌচাক উড়ালসড়ক নগরবাসীর মনে স্বস্তি এনেছে। প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম এই উড়ালসড়ক নির্মাণ ঘিরে বহু ভোগান্তির পর আজ এমনটিই জানান অনেকে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারটি একটি দীর্ঘ ফ্লাইওভার। আমি মনে করি এটি রাজধানীর যানজট নিরসনে বিরাট ভূমিকা রাখবে এবং মানুষের জীবন যাত্রা আরও সহজ হবে এবং মানুষের সময় বেঁচে গিয়ে কর্মচাঞ্চল্য আরও বৃদ্ধি পাবে।” ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই উড়ালসড়কটি নির্মাণের সময় নাগরিকদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এখন উদ্বোধনের কারণে সেই কষ্ট লাঘব হবে। অল্প সময়ে শান্তিনগর থেকে রামপুরা, রাজারবাগ থেকে নিউ ইস্কাটন, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল থেকে সাত রাস্তা ও কারওয়ান বাজার পর্যন্ত যাতায়াত করা যাবে। এ ছাড়া উড়ালসড়কের নিচের সব রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। এতে যাতায়াতে মানুষের মনে স্বস্তি ফিরবে।’ প্রধানমন্ত্রী, মেয়রের এমন বক্তব্য নগরবাসীকে আশার খোরাক দেয়, অভিশপ্ত যানজটকে নিয়তি ধরে নেওয়া রাজধানীবাসী আশাবাদী হতে চায়। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় নয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই উড়ালসড়কের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে কয়েক দফায় প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়। এই উড়ালসড়ক নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ না হওয়ায় আর্থিকভাবে প্রতিবছর এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হন ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা। চারটি অংশে বিভক্ত প্রকল্পটির তিনটি অংশ আগেই খুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাতরাস্তা-মগবাজার-হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত অংশটি গত বছরের ৩০ মার্চ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ওই বছরের বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর খুলে দেওয়া হয় নিউ ইস্কাটন থেকে ওয়ারলেস মোড় পর্যন্ত এক দিকের অংশ। চলতি বছরের ১৭ মে এফডিসি মোড় থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত তৃতীয় অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। সর্বশেষ মৌচাক-মালিবাগ-শান্তিনগর-রাজারবাগ-মগবাজার অংশ খুলে দেওয়ার মাধ্যমে চালু হয়ে গেল পুরো ফ্লাইওভারটি। যানজটের কারণে রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। যানবাহনের পরিমাণ যদি একই হারে বাড়তে থাকে এবং তা নিরসনের কোনো উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে ২০২৫ সালে এই শহরে যানবাহনের গতি হবে ঘণ্টায় চার কিলোমিটার, যা মানুষের হাঁটার গতির চেয়ে কম। এমন ভয়াবহতার মধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখ অধিবাসীর এই নগরের বাসিন্দারা খড়কুটো ধরে হলেও পরিত্রাণ চাইবে। সেখানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উড়াল সড়কের পূর্ণাঙ্গ যাত্রা এবং প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি মহলের আশার বাণীতে উদ্বেল হতেই পারে নগরবাসী। আমরাও আশাবাদী হতে চাই। যানজটের অভিশাপ থেকে মুক্তি হয়ে পথ চলায় গতির সঞ্চার হোক। এই মুক্তির পথে ইতিবাচক পরিবর্তন আনুক মগবাজার মৌচাক উড়ালসড়ক।









