রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশনের দেওয়া চিঠির জবাবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে হত্যা ও নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে সেদেশের মানবাধিকার কমিশন। মিয়ানমরের মানবাধিকার কমিশনকে গত ৮ সেপ্টেম্বর চিঠি দেয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। ওই চিঠির জবাবে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের কারণ হিসেবে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করা হয়। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘যদিও তারা সবকিছু স্বীকার করতে চায় না, তবুও চিঠির জবাবে তারা স্বীকার করেছে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন করার ফলে তারা বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়েছে। অবশ্য মিয়ানমার সরকার বারবার বলতে চেষ্টা করেছে যে, তাদের ওখানে কোন নির্যাতন হচ্ছে না।’ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চাপের মুখে মিয়ানমার তাদের অপকর্ম স্বীকার করতে শুরু করেছে। সেইসঙ্গে তারা একেকসময় একেক কথা বলে রোহিঙ্গা ইস্যু ও তা সমাধানের পথ জটিল করে তুলছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে মিয়ানমারের মন্ত্রী একবার অঙ্গীকার ও আরেকবার অস্বীকার করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলছে। এই বিষয়টি যে বাংলাদেশ বেশ সাবধানতার সঙ্গে লক্ষ্য করছে, তা রাজধানীতে এক সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর বক্তব্যে বেশ পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। মিয়ানমারের দেওয়া প্রত্যাবাসন প্রস্তাব আন্তর্জাতিক চাপ এড়ানোর কৌশল হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে উল্লেখ করে এই সংকটের কারণে দেশটির সেনাবাহিনীর উপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। বিষয়টির প্রেক্ষাপট যাই হোক না কেনো, এটা বাংলাদেশের জন্য এক অনিশ্চিত ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা বলে আমাদের ধারণা। রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অমানবিক জাতিগত নিধন অভিযানে এ পর্যন্ত ৩,০০০ রোহিঙ্গা মারা গেছে ও প্রাণ বাঁচাতে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশমুখি ঢল এখনও অব্যাহত আছে, সেইসঙ্গে মিয়ানমারের উস্কানি ও নানা প্রোপাগান্ডা এখনও অব্যাহত আছে। বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখে কূটনৈতিক দক্ষতায় মোকাবিলা করা উচিত বলে আমরা মনে করি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও এ সমস্যায় কাজে লাগানো যেতে পারে। সর্বশক্তি নিয়োগ করে পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধানে সবাই কাজ করবেন বলে আমাদের আশাবাদ।









