ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গবেষণাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পালিত হচ্ছে ১০ম বিশ্ব ক্যান্সার গবেষণা দিবস। ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা দিবসটি এবার এক দশক পূর্ণ করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘Advancing Cancer Research Together’ বা ‘আসুন সবাই মিলে ক্যান্সার গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যাই’।
দিবসটি উপলক্ষে রোগী, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষকে ক্যান্সার গবেষণায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবন, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরাই দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য।
আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যান্সার রিসার্চ (AACR) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থার (IARC) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে মারা গেছেন প্রায় ৯৮ লাখ মানুষ।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন মানুষের মধ্যে একজন জীবদ্দশায় কোনো না কোনো ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও মানুষের গড় আয়ু বাড়ার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে নতুন ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে ক্যান্সার গবেষণায় অগ্রগতির কারণে রোগটির চিকিৎসা ও মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তামাক ও অ্যালকোহল ব্যবহার, বায়ুদূষণ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মতো ঝুঁকি কমানোর মাধ্যমে ক্যান্সারের অনেক ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।
বাংলাদেশেও ক্যান্সারের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে মোট মৃত্যুর প্রায় ১২ শতাংশ ক্যান্সারের কারণে হয়। প্রতি লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ১০৬ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং প্রতিবছর নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন আরও প্রায় ৫৩ জন।
বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার বেশি দেখা যায়। পাশাপাশি খাদ্যনালী, মুখগহ্বর ও ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রকোপও রয়েছে। এসব ক্যান্সারের ক্ষেত্রে তামাক ব্যবহারের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
ইমিউনোথেরাপি, জিন থেরাপি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্তকরণের মতো আধুনিক পদ্ধতিগুলো দীর্ঘদিনের গবেষণার ফল। তবে বাংলাদেশে অনেক রোগী এখনো ক্যান্সারের তৃতীয় বা চতুর্থ পর্যায়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। এতে চিকিৎসা জটিল হওয়ার পাশাপাশি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্য, পরিবেশ ও জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে গবেষণা বাড়ানো গেলে রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে গবেষণায় বিনিয়োগ, ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ জোরদার করা প্রয়োজন।
বিশ্ব ক্যান্সার গবেষণা দিবসের এক দশক পূর্তিতে গবেষণা, চিকিৎসা ও জনসচেতনতার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আজকের গবেষণাই ভবিষ্যতে ক্যান্সারে আক্রান্ত আরও বেশি মানুষের জীবন বাঁচানোর পথ তৈরি করতে পারে।









