ঢাকার সাভারে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলায় সাংবাদিক মো. কামরুজ্জামান খানকে আসামি করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। সংগঠন দুটি বলছে, মামলার এজাহারে কামরুজ্জামানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
সোমবার রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের রেডিও কলোনি এলাকায় সাভার পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সাভার মডেল থানায় মামলাটি করা হয়। মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তালিকায় ১৮ নম্বরে রয়েছে টাইমস অব বাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুজ্জামান খানের নাম।
মামলাটি করেন সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্বাস উদ্দিন। এজাহারে বলা হয়েছে, বাসটির মালিক হাবিবুর রহমান হৃদয় এবং মামলার ১১ থেকে ২০ নম্বর আসামির নির্দেশনা, সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতায় অন্য আসামিরা সমবেত হয়ে বাসটিতে অগ্নিসংযোগ করেন।
তবে কামরুজ্জামান খানকে কীভাবে বা কোন তথ্যের ভিত্তিতে ওই নির্দেশনা, সহায়তা কিংবা কথিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, এজাহারে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য উল্লেখ নেই।
কামরুজ্জামান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, তার বাড়ি সাভারে হলেও গত তিন বছর ধরে তিনি সেখানে থাকেন না। তার ভাষ্য, ‘গত কোরবানি ঈদের পর থেকে সাভার তো দূরের কথা, আমি গাবতলীও পার হইনি।’
মামলার বাদী এসআই আব্বাস উদ্দিনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি কারও সংশ্লিষ্টতা না থাকে, তাহলে অভিযোগপত্র থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হবে।’
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ‘আমি এখনই তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়ে দেব যেন বিষয়টি পর্যালোচনা করে আসামির তালিকা থেকে তার (কামরুজ্জামান) নাম বাদ দেওয়া হয়।’
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অপস ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি অবগত নই। যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।’
এদিকে এক বিবৃতিতে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। কিন্তু কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং তার কথিত সম্পৃক্ততার বিষয়ে কী ধরনের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, তা এজাহারে স্পষ্ট নয়।
ডিআরইউ নেতারা বলেন, কামরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে সাভারে বসবাস করেন না। তাই সাভারে সংঘটিত একটি ঘটনায় তাকে আসামি করার বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়া হয়রানিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
তারা আরও বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়া গেলে কামরুজ্জামানকে মামলা থেকে অব্যাহতির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ এক যৌথ বিবৃতিতে কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের যথাযথ তদন্ত ছাড়াই একজন পেশাদার সাংবাদিককে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
ক্র্যাব নেতারা এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি রয়েছে বলেও দাবি করেন এবং অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
মো. কামরুজ্জামান খান টাইমস অব বাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার। তিনি অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) স্থায়ী সদস্য।









